বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় গবাদিপশুর সংক্রামক ব্যাধি খুরারোগের (এফএমডি) প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। উপজেলায় ৩ শতাধিক গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ১৫ দিনে এই রোগে এক ইউনিয়নেই তিনটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। ভ্যাকসিন ও ওষুধ দিয়েও রোগ নিরাময় না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গরুর খামারি ও কৃষকেরা। কেউ কেউ আতঙ্কে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।
কৃষক ও খামারিরা বলছেন, প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার পরেও রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় ৬ হাজার খামার রয়েছে। খামারি ও কৃষকদের ৩ শতাধিক গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
উপজেলার এক ডজনের বেশি খামারি ও কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাহ্ বন্দেগী, মির্জাপুর, খানপুর, বিশালপুর, সীমাবাড়ী, কুসুম্বি, গাড়ীদহ ইউনিয়নে ৩ শতাধিক গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে এই রোগ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২ সপ্তাহে শাহ্ বন্দেগী ইউনিয়নের ঘোলাগাড়ি গ্রামের রুহুল আমিনের দুটি ও আন্ধিকুমড়া গ্রামের কবির হোসেনের একটি গরু মারা গেছে।
কবির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার গরুটি খুরারোগে মারা গেছে। গরুটি মোটাতাজা করে আসছে কোরবানির ঈদে বিক্রি করতে চেয়েছিলাম। হঠাৎ গরুটির কাঁপুনি দিয়ে জ¦র আসে। মুখ দিয়ে ফেনার মতো লালা পড়তে থাকে। মুখে-পায়ে ঘা দেখা দেয়। খুরারোগে গরুটি মারা যাওয়ায় দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। গরুকে ভ্যাকসিনসহ ওষুধ দিয়েছি, তবে কোনো কিছুতেই কাজ হয়নি। চোখের সামনে পরিবারের বড় সঞ্চয় প্রায় লাখ টাকার গরুটি হারালাম।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাহ্ বন্দেগী ইউনিয়নের বাগমারা এলাকার এক খামারি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার খামারে ৫০টি গরু আছে। দেড় মাস আগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে গিয়ে শুনি খুরারোগের ভ্যাকসিনের মজুদ নেই। পরে বাইরে থেকে কিনে গরুগুলোকে ভ্যাকসিন দিয়েছি। এ পর্যন্ত আমার খামারের কোনো গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়নি।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্র জানায়, এটি ভাইরাসজনিত রোগ। মূলত প্রতিটি গরুকে চার মাস পরপর তথা বছরে তিনটি ভ্যাকসিন দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। দেখা যায়, অনেক খামারি গরু যখন মৃত্যুর মুখোমুখি হয় ঠিক তখনই প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। তখন খুরারোগে আক্রান্ত গরুকে ওষুধ ও ভ্যাকসিন দেওয়ার পরও বাঁচানো সম্ভব হয় না।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. রেহানা খাতুন ভ্যাকসিনের মজুদ না থাকার কথা স্বীকার করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আক্রান্ত গরুগুলোকে তার দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।’