শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রকে বেত দিয়ে পিটিয়েছেন ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ছাগলনাইয়ার চাঁদগাজী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রকে বেত্রাঘাতের সময়ের ভিডিওচিত্র ধারণ করে তা আবার নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেছেন এই জনপ্রতিনিধি। যা এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, চাঁদগাজী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল ওই ছাত্রকে শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের কারণ জিজ্ঞেস করেন। পরে তিনি ছাত্রের দুই হাতে বেত্রাঘাত করেন। বেত্রাঘাত করতে করতে বলেন, ‘তোমাদের জন্য মেয়েরা স্কুলে আসতে পারে না। তুমি এ সাহস পাও কোথায়?’
ভিডিওতে চেয়ারম্যানকে আরও বলতে শুনা যায়, ‘শিক্ষিকা তোমার মায়ের মতো। তুমি যে কাজ করেছ ভবিষ্যতে আর এই কাজ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দাও। সবার সামনে কান ধরো। কান ধরে বলো আমি আর জীবনে ইভটিজিং করব না, চারদিকে ঘুরে ঘুরে বলো আমি আর জীবনে ইভটিজিং করব না। জীবনে এই কাজ আর করব না। তোমার সঙ্গে আর কে কে আছে এদের নাম বলো।’ তখন বেত্রাঘাতের শিকার ছাত্র জনি ও নাঈম নামে দুজনের নাম বলে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল বলেন, ‘ইভটিজিংয়ের ঘটনায় ওই শিক্ষক আমার কাছে বিচার দিলে আমি প্রাথমিকভাবে ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রটিকে শাসন করি। বড় কোনো ঘটনা না হওয়ায় আইনের আওতায় নিয়ে আসিনি। আইনের আওতায় নিয়ে এলে ছেলেদের ভবিষ্যৎ খারাপ হতো। এজন্য নিজেই সামান্য শাসন করেছি। এই ছাত্রকে সতর্ক করার মাধ্যমে অনেক বখাটে কিশোর সতর্ক হবে।’
এ বিষয়ে চাঁদগাজী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তাহেরা বেগম বলেন, ‘একজন শিক্ষককে শুক্রবার ইভটিজিংয়ের ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান ছেলেটিকে সামান্য প্রহার করে শাসন করেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর না করার জন্য বলেন।’
তবে ফেনীর পুলিশ সুপার জাকির হাসান বলেন, ‘যে কেউ ইচ্ছে করলেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। যদি কেউ অন্যায় করে তাকে প্রশাসনের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’