দিনাজপুর সদর উপজেলায় গাছ কেটে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতি চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একটি ড্রাম ট্রাক ভাঙচুর করেছে ডাকাতেরা। এতে আরিফুল ইসলাম (৪৫) নামে এক চালক আহত হয়েছেন।
আজ বুধবার (২৪ জানুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে জেলার সদর উপজেলার ৪নং শেখপুরা ইউনিয়নের আত্রাই ব্রীজের পশ্চিম পাশে ঘটনা ঘটে। এর আগেও সেখানে বেশ কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শেখ জিন্নাহ আল মামুন।
আহত ট্রাক চালক আরিফুল ইসলাম বলেন, বালু ফেলে খালি গাড়ি নিয়ে আমি আত্রাই ব্রীজের দিকে যাচ্ছিলাম। রাতে ঘন কুয়াশা ছিল। হঠাৎ দেখি রাস্তায় গাছ ফেলে ৮ থেকে ১০ জন দাঁড়িয়ে আছে। তারা সবাই কালো কাপড় আর টুপি পড়া ছিল। তাদের হাতে সামুরাই, রাম দা, লাঠিসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র ছিল। তাদেরকে দেখতে পেয়ে আমি ট্রাকটি পেছনের দিকে নিতে থাকি। এক পর্যায়ে তারা আমার ট্রাকের কাছাকাছি আসলে গাড়ি বন্ধ করে আমি লাফ দিয়ে গ্রামে ঢুকে চিৎকার করি। তারা ট্রাকটি ভাঙচুর করে। স্থানীয়রা ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়। ডাকাতি করার জন্য গাছ কেটে রাস্তা ব্যারিকেড দিয়েছে বলে ধারণা আরিফুল ইসলামের।
স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলম বলেন, ভোরবেলা চিৎকার শুনে অনেকেই ছুটে আসি। এসে দেখি রাস্তায় গাছ ফেলা রয়েছে। একটু সামনে একটা ড্রাম ট্রাক দাঁড় করানো আছে। ট্রাকের লুকিং গ্লাস ভাঙা ও সামনের গ্লাসে দাগ ছিল। গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টা করা হয়েছিল। ট্রাকের চালক স্থানীয় হওয়ায় ট্রাক থামিয়ে গ্রামে ঢুকে চিৎকার করেন। এর আগেও এখানে বড় বড় গাছ কেটে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। এখানে একটু ঝোপঝাড় থাকায় অন্ধকার থাকে। অটোরিকশা ছিনতাই হয়েছিল। এখানে একটা ল্যাম্পপোস্ট ছিল। সেগুলোও ভেঙে ফেলা হয়। এখানে আলোর ব্যবস্থা করা দরকার।
তানভীর নামে অপর এক স্থানীয় বলেন, ভোরবেলা আমার বাবা আমাকে ঘুম থেকে ডেকে বলে আমাদের গাছগুলো কেটে নাকি রাস্তায় ফেলে রাখছে। তারপর আমি ঘটনাস্থলে আসি। তারপর তো ট্রাক আটকিয়ে ভাঙচুরের কথা শুনলাম। জায়গাটা শুনশান হওয়ায় এখানে প্রায় এ ধরনের অপরাধ হয়।
দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ জিন্নাহ আল মামুন বলেন, গাছ কেটে রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। এর আগেও এখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কিনা আমরা খতিয়ে দেখছি। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি। তাহলে বিস্তারিত জানা যাবে কেন গাছ কেটে রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়া হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত আমরা কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তীতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।