এই দিনে

মহাকবি, নাট্যকার, বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক শ্রী মধুসূদন দত্ত। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাবা রাজনারায়ণ দত্ত, মা জাহ্নবী দেবী। বাবা ছিলেন বিখ্যাত আইনজীবী। মায়ের কাছেই মধুসূদনের বাল্যশিক্ষা। বিশপস কলেজে পড়ার সময় তিনি ইংরেজি ছাড়াও গ্রিক, লাতিন ও সংস্কৃত ভাষা শেখেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে বাবা অর্থ পাঠানো বন্ধ করে দিলে তিনি মাদ্রাজে গিয়ে শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা করেন। রপ্ত করেন হিব্রু, ফরাসি, জার্মান, ইতালিয়ান, তামিল ও তেলুগু ভাষা। এ সময় তিনি ‘ক্যাপটিভ লেডি’ (১৮৪৯) কাব্য রচনা করেন। বিয়ে করেন রেবেকা নামের এক ইংরেজ নারীকে। ১৮৫৬ সালে বিয়ে করেন আরেক ইংরেজ নারী হেনরিয়েটাকে। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে কলকাতায় ফিরে আসেন এবং কিছুদিন পুলিশ কোর্টের কেরানি, পরে দোভাষীর কাজ করেন। ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে লেখেন প্রথম বাংলা মৌলিক নাটক ‘শর্মিষ্ঠা’। এ ছাড়া দুটি প্রহসন : ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ও ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’। এ ছাড়া নাটক ‘পদ্মাবতী’ও

‘কৃষ্ণকুমারী’ এবং কাব্য ‘তিলোত্তমা সম্ভব’, ‘বীরাঙ্গনা’ ও ‘ব্রজাঙ্গনা’ রচনা করেন তিনি। ভার্সাইয়ে বসে লেখেন অমর সনেট ‘বঙ্গ ভাষা’ ও ‘কপোতাক্ষ নদ’। সনেটগুলো ১৮৬৬ সালে ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ নামে প্রকাশিত হয়। মধুসূদন দত্ত ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন মৃত্যুবরণ করেন।