ঢাকায় ঘুরছেন উড়ছেন স্বস্তিকা

স্বস্তিকা মুখার্জি ঢাকায় এসে যেন উড়ছেন। মনে হচ্ছে যেন একটি ফড়িং অনেক দিন পর ওড়ার সুযোগ পেল, আর তাই উড়ে উড়ে মনের সুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর যেখানেই ফুলের বাগান পাচ্ছে বসে যাচ্ছে ফুলে। অন্তত স্বস্তিকার ঢাকায় মনের সুখে ঘুরে বেড়ানোটাই এভাবেই কিছুটা বর্ণনা করা যায়। যদিও চারুকলার ছাত্রী মার্জিয়া বলছেন, ‘আজকে আমাদের ক্যাম্পাসে পরী আসছিল।’

মঙ্গলবার চারুকলায় গিয়েছিলেন। তাকে পেয়ে চারুকলার শিক্ষার্থীরা দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল। অভিভূত স্বস্তিকা নিজেও। চারুকলায় গিয়ে স্বস্তিকা যেন বিশুদ্ধভাবে নিঃশ্বাস নিতে পেরেছেন। সুযোগ পেলে হয়তো শিল্পীদের এই উদ্যানে থেকেও যেতেন। বললেন, ‘আমাদের পেছনে সর্বক্ষণ তাড়া, সবসময় কোথাও না কোথাও পৌঁছানোর তাড়া। আজকেও ছিল, এক গাদা ইন্টারভিউ। চারুকলায় গিয়ে মনে হচ্ছিল ওখানেই থেকে গেলে হয়, কত কিছু জানার, দেখার, শেখার আছে। শরীর খারাপ বলে অনেক কাজ ক্যানসেল করলাম।’

মন খারাপ থাকা চারুকলার এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে বললেন, ‘না হলে তোমার সঙ্গে দেখা হতো না। এই যে তোমার দিনটা ভালো করতে পেরে তোমার একটা কাজে লাগলাম, সেটা তো মিস হয়ে যেত। মানুষের ভালোবাসা আছে বলেই আমি আছি, যারা আমার ইন্টারভিউ পড়ে তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা হওয়াটা বেশি জরুরি। হ্যাঁ কি না?’

চারুকলা অনুষদের উঠানে একটা ছোট্ট কুকুর ছানাকে পেয়ে কোলে তুলে নিলেন। যেভাবে কোলে নিলেন কে বলবেন ইনি একজন শোবিজ তারকা, আলো ঝলমলে দুনিয়ার মানুষ। শুধু তাই নয়, ঢাকা সফরের সবচেয়ে সেরা স্মৃতিও এই কুকুর ছানাকে কোলে নেওয়ার বিষয়টি। এমনটাই জানিয়ে স্বস্তিকা বললেন, ‘চারুকলার সব সুন্দর। কোনায় কোনায় শিল্পী আর তাদের শিল্প। তারই মধ্যে এই ছানাগুলো তাদের ভালোবাসা নিয়ে বিরাজমান। খুব ভালো লাগল দেখে যে, ছাত্রছাত্রীরা সবাই ওদের যত্ন করে, খেতে দেয় আগলে রাখে।’

কোলে কুকুর ছানার ছবিটা যিনি তুলেছেন তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, ‘আমার ঢাকা সফরের সবচেয়ে পছন্দের ছবি এটি।’ স্বস্তিকা নিজেই যে উড়ছেন এমনটা নয়, উড়ছেন এবং অনেকেরই মন ভালো করেও দিচ্ছেন। যেন শহরে এসেছেন এক বৈদ্য, যিনি মন খারাপওয়ালা মানুষের মন ভালো করে দিতে পারেন। চারুকলায় দিনভর অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন, খেয়েছেন, গল্প করেছেন। অনেকেই জানিয়েছিলেন তাদের মধ্যে যে বিষন্নতাবোধ ছিল তা স্বস্তিকার সঙ্গে আড্ডা দিতেই কেটে গেছে। এসব লিখে ফেসবুকে নিজেদের আবেগও প্রকাশ করেছেন তারা।

গুলশান আড়ংয়ে কাজ করেন নাঈম মুহম্মদ। তার ফেসবুক টাইমলাইনে দেখা গেল স্বস্তিকার সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ছবি। নাঈমের ঘাড়ে হাত দিয়ে হাসছেন অভিনেত্রী। নাইম লিখেছেন, দু-তিন দিনের মন খারাপ, বিষন্নতা, সব বোধহয় এই পছন্দের মানুষটাকে দেখে হঠাৎ হাওয়ায় উড়ে গেল আজ। আমার অসম্ভব পছন্দের অভিনেত্রী এবং তারচেয়েও বেশি ভালো লাগে ‘মানুষ ও ব্যক্তি’ স্বস্তিকা মুখার্জিকে! আমি কাউকে মন থেকে খুব ভালোবাসলে, পছন্দ করলে, কীভাবে যেন কখনো না কখনো তার সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। হৃদয় থেকে প্রবলভাবে চাই বলেই হয়তো। ধানমন্ডিতে কফি খেতে গিয়ে এক ছোট্ট ভক্তের মন ভালো করে দিলেন। প্রেয়সী মনিও স্বস্তিকাকে ওভাবে ধরতে পেরে ভীষণ খুশি। ওই যে বলছিলাম স্বস্তিকাকে একজন পরী বললেও সেটাও হয়তো ঠিক। কিন্তু ফড়িং বললেও ভুল হয় কি? হুট করেই গঙ্গার ধারের স্বস্তিকাকে দেখা গেল পদ্মার পাড়ে। হ্যাঁ, সত্যিই, চলে গেছেন মাওয়া। ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে বললেন, ‘কী যে ভালো লাগছে। ট্রাফিকে আটকে ছিলাম, শুধু মনে মনে চেয়েছিলাম সন্ধ্যার আগে যেন আমি পদ্মার পাড়ে পৌঁছাতে পারি।’