নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় সহকর্মীর হাতে খুন হয় জুয়েল মিয়া (২০)। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার মিরপুর রোডের একটি বেসরকারি এনজিও অফিসের নিরাপত্তাকর্মী। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘাতক আখতারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ঘাতক আখতারের ভাসমান যৌনকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এমন একজনের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটান আখতার।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে, নিরাপত্তাকর্মী আখতারকে পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার এলাকার একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ জানতে পারে মিরপুর রোডের বেসরকারি এনজিও 'সিদীপ' কার্যালয়ের পাওয়ার সাব-স্টেশন রুমের ভেতর থেকে নিরাপত্তাকর্মী জুয়েলের হাত-পা বাঁধা লাশ পাওয়া যায়। সিসিটিভিতে দেখা যায়, ২৩ জানুয়ারি ভোরে অপর নিরাপত্তাকর্মী আক্তার হোসেন একটি স্টিলের পাইপ হাতে ভবনের দক্ষিণ পাশের চেয়ারের ওপর কম্বল মুড়িয়ে শুয়ে থাকা নিহত জুয়েল মিয়ার (২০) দিকে এগিয়ে যায়। লাঠি দিয়ে জুয়েলকে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। এতে জুয়েল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। মাটিতে পড়ার পরেও আক্তার তাকে নৃশংসভাবে পেটাতে থাকে। এরপর ঘাতক আখতার মাটিতে পড়ে যাওয়া জুয়েলের হাত ধরে টেনেহিঁচড়ে পাওয়ার সাব-স্টেশন রুমের দিকে নিতে থাকে। টেনেহিঁচড়ে নেওয়ার সময়ও আক্তার হাতে থাকা স্টিলের পাইপ দিয়ে জুয়েলকে তিন দফা পেটায়।
আজিমুল হক জানান, লাঠির আঘাতে জুয়েলের মাথা, চোখ, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে যখম হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে আখতার। এরপর জুয়েলের হাত বেঁধে কম্বল মুড়িয়ে পাওয়ার সাব-স্টেশন রুমের ভেতর ঢুকিয়ে রুমটি বন্ধ করে দিয়ে পালিয়ে যায়। হত্যার পর আখতার আলামত নষ্ট করে।
পুলিশ জানায়, আখতার হোসেন দেড় বছর ধরে সিদীপ নামের এনজিও কার্যালয়ে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছে। জুয়েল মিয়া চলতি মাসের ১ তারিখ একই প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে যোগ দেয়। জুয়েল মিয়া ডিউটি চলাকালে প্রায় সময়ই অফিসের বাইরে যেতে চাইলে আখতার তাতে বাধা দিত। এতে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। আখতার আগে থেকে এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুবাদে কর্তৃপক্ষের সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সে এটির সুযোগ নিয়ে অন্যদের ওপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করত। জুয়েল এটি মেনে নিতে পারেনি।
জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আসামি আখতার তার বান্ধবী পরিচয়ে এক যৌনকর্মীকে রাতে অফিসে নিয়ে আসে এবং জুয়েল তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। বিষয়টি নিয়ে নিহত জুয়েল আসামি আখতারকে সবাইকে জানিয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখায়। এনিয়ে তাদের মধ্যে চরম বিরোধ জন্মায়। ঘটনার দিন রাত ১১টার দিকে জুয়েল আসামি আখতারের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়। রাত ১টার দিকে আখতার এনজিও অফিসের পিওন সতেজ চাকমা ও আল আমিনকে বিষয়টি জানালে তারা নিচে আসে।
এসময় জুয়েল মোবাইলটি আল আমিনের কাছে জমা দেয়। এই ঘটনার ক্ষোভের জেরে ভোর ৫টার দিকে জুয়েল মিয়া ডিউটিরত অবস্থায় ভবনের দক্ষিণ পাশে চেয়ারের ওপর কম্বল মুড়িয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় জুয়েল একটি লোহার পাইপ নিয়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য লাশটি টেনেহিঁচড়ে পাওয়ার সাব-স্টেশন রুমে নিয়ে যায়। সেখানে নিহত জুয়েলের হাত দড়ি দিয়ে বেঁধে কম্বল মুড়িয়ে সাব-স্টেশনের ভেতরে লুকিয়ে রেখে রুমটি বাইরে থেকে লাগিয়ে দেয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার পাইপটি ফেলে দেয়। হত্যার সময়ে ভবনের অপর দুই নিরাপত্তা অন্য রুমে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল।