বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘নোনা পানি’ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হয়েছে ২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। বেঙ্গল ক্রিয়েশনস লিমিটেড প্রযোজিত এবং সৈয়দা নিগার বানু পরিচালিত চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের খুলনা তথা দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে। সিনেমায় সেই সব প্রান্তজনের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যাদের গল্প খুব কমই ধরা পড়ে সিনেপর্দায়।
আইলার শিকার রোম্বা একজন স্বামী পরিত্যক্তা। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শিকার হয়ে তিনি তার ছোট ছেলে সোহাগকে নিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় অভিবাসিত হয়েছেন বটখালী গ্রামে। তার পেশা নদী থেকে চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করা।
সিনেমার আরেকটি চরিত্রের নাম দশপাই। সে নারী না পুরুষ তাই নিয়ে ধন্দ কাটে না গ্রামের মানুষের। গ্রামের মেয়েদের নাক-কান ফুটিয়ে জীবন নির্বাহ করা দশপাইয়ের মুক্ত পৃথিবী হলো একটি রেডিও। রেডিওতে মগ্ন নানান ভাষা ও সুরের মাধ্যমে এই চরিত্রটি পৃথিবীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। অন্যদিকে যাত্রাদলের কৃষ্ণা যার একটি সুরেলা কণ্ঠ থাকলেও তার শরীরটা মোটেও আকর্ষণীয় নয়। তাই পুশআপ ব্রা পরে একসময় নায়িকা হয়ে ওঠে সে। কিন্তু টিকে থাকার লড়াইয়ে জয়-পরাজয়ের মুখোমুখি হয়।
নির্মাতা সৈয়দা নিগার বানু বলেন, ‘এটা খুবই আনন্দের যে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রটির বাংলাদেশ প্রিমিয়ার হচ্ছে। আমরা আশা করছি, বাংলাদেশের সুন্দরবনসংলগ্ন নোনা পানি অঞ্চলের সাধারণ মানুষের না-বলা গল্পটি বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেবে এই উৎসব।’
আবুল খায়ের প্রযোজিত ‘নোনা পানি’ চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ করেছেন নেহাল কোরেশী, সম্পাদনা করেছেন ইকবাল কবীর জুয়েল, সংগীত পরিচালনা করেছেন সৈয়দ সাবাব আলী আরজু। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন বিলকিস বানু, রাকিবুল হক রিপন, জয়িতা মহলানবিশ, রুবল লোদী, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, বীণা মজুমদার, সুকান্ত সরকার প্রমুখ।
সম্প্রতি ভারতের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, থার্ড আই এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং শ্রীলঙ্কার জাফনা আন্তর্জাতিক সিনেমা উৎসবে প্রদর্শিত, প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়েছে ‘নোনা পানি’।