জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে একটি পরিবারকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে একঘরে করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সমাজপতি ও মাতব্বরদের বিরুদ্ধে। সালিশ দরবারে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েও রেহাই পায়নি পরিবারটি। ভাঙচুর করা হয়েছে বাড়িঘর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব শিয়ালাপাড়া গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন কয়েক মাস আগে তাবলিগ জামাতে যান। তখন তার স্ত্রী হাবিবা বাবার বাড়িতে গিয়ে সেখান থেকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। আর এ ঘটনায় তার শ^শুরবাড়ির গ্রামের সমাজপতি ও মাতব্বররা হাবিবা অন্য পুরুষের সঙ্গে পালিয়ে গেছে এমন রটনা রটিয়ে গ্রামে আসতে বাধা দেন। বাধ্য হয়ে আলমগীর স্ত্রীকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী নওগাঁয় ভাড়া বাসায় কয়েক মাস থাকেন। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে কয়েক মাস পর আলমগীর তার স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে এলে গ্রামের সমাজপতি ও মাতব্বররা বাধ সাধেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে, মিশতে, মসজিদে যেতে ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে বাধা দেন।
এরপর একঘরে থেকে ফিরিয়ে আনতে বসানো হয় সালিশ। সেখানে ওই মাতব্বররা কথিত বিয়েও দেন আলমগীর-হাবিবা দম্পতির। জরিমানা করা হয় ৩০ হাজার টাকা। গত সোমবার দরিদ্র আলমগীরের বাবা মোশাররফ ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার পর ওই রাতেই কথা-কাটাকাটির জেরে বাড়িঘর ভাঙচুর ও মারপিট করা হয়।
আলমগীরের স্ত্রী হাবিবা বলেন, ‘আমার স্বামী তাবলিগে যাওয়ায় আমি আমার বাবার বাড়িতে চলে আসি। এরপর সেখানে থেকে কয়েক দিনের জন্য এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাই। আমার স্বামী তাবলিগ থেকে আসার পর আমাকে বাড়িতে নিয়ে এলে গ্রামের প্রভাবশালী কয়েকজন আমাদের বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেন। কিন্তু আমার স্বামী ও শ^শুর পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। এমনকি আমার শ্বশুর ওদের পা ধরলেও তারা আমার শ^শুরকে মারধর ও আমাদের বাড়ি ভাঙচুর করে।’ হাবিবার স্বামী আলমগীর বলেন, ‘আমি তাবলিগে গেলে আমার বউয়ের নামে হাসান, রাজ্জাক, হোসেন ও সাজু এসব মিথ্যা অভিযোগ এনে চক্রান্ত করে হয়রানি করছে।’
অভিযোগের বিষয়ে গ্রামের মাতব্বর হাসান বলেন, ‘আলমগীরের বউ খারাপ প্রকৃতির মানুষ। এজন্য সমাজের লোকজনের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার জন্য সালিশের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছে। সেই টাকা দিয়ে গ্রামের সবাই খাওয়া-দাওয়া করেছে এবং নতুন করে বিয়ে পড়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তারা নিজেরাই টাকা দিয়েছে খাওয়ার জন্য।’
আক্কেলপুর থানার ওসি শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে ও তদন্ত করা হচ্ছে।’