বগুড়ায় তাপমাত্রা কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন আলুক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ছে লেটব্লাইট রোগ। রোগ থেকে আলু বাঁচাতে জমিতে ওষুধ দিচ্ছেন কৃষকরা। একদিকে আলু চাষে খরচ বাড়ছে আর অন্যদিকে উৎপাদন ঘাটতির শঙ্কায় পড়েছেন তারা।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, জমিতে বিক্ষিপ্তভাবে আলুগাছ আক্রান্ত হয়েছে। এটি জেলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় কোনো ঘাটতি ফেলবে না। জেলার সবগুলো উপজেলায় কমবেশি আলুর আবাদ হয়। তবে শিবগঞ্জ, নন্দীগ্রাম, কাহালু, শাজাহানপুর উপজেলায় আলু আবাদের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি। লেটব্লাইট রোগ বড় আকারে দেখা দেয়নি। বরং এসব উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জমিতে বিক্ষিপ্তভাবে আলুগাছ আক্রান্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় সর্বোচ্চ ৫০০ হেক্টর জমির আলুগাছ আক্রান্ত হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ায় এবার ৫৫ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ ২০ হাজার ৪৭৫ টন।
শাজাহানপুর উপজেলার বাবুর পুকুর এলাকার আলুচাষি আকবর হোসেন, রেজাউল ইসলাম, বাকের গণি বলেন, এখন এই রোগ দেখা দেওয়ায় বাড়তি খরচের ঝামেলায় পড়েছেন তিনি। গত কয়েক দিন চলা শৈত্যপ্রবাহে আলুগাছে লেটব্লাইট রোগ দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে আলু গাছে পচন ধরেছে। গাছের বয়স ৪০ থেকে ৪৫ দিন। তবুও ওষুধ স্প্রে করে কোনো সুফল মিলছে না। গাছ মরে গেলে চাষিদের বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে। শিবগঞ্জের ভায়ের পুকুর এলাকার কৃষক শাহ গাজী, লিটন বলেন, জমিভেদে তিন থেকে পাঁচবার এই ওষুধ দিয়ে থাকেন কৃষকরা। সাধারণত আলু তোলার আগ পর্যন্ত এক বিঘা জমিতে কিটনাশকের পেছনে তিন হাজার টাকার মতো খরচ হয়। আলুর ক্ষেতে ছত্রাকনাশক ওষুধের পেছনে বেশি খরচ করতে হয়। এবার এটি ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ওই কৃষক।
শিবগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এবার ঠা-া বেশি। মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে যেসব জমিতে পাঁচ থেকে ছয়বার ছত্রাকনাশক ওষুধ দিতে হতো, এবার সেখানে তা ১০ বার করেও দিতে হতে পারে। এতে কৃষকের খরচ একটু বেশি হবে। আলুর লেটব্লাইট রোগ ছত্রাক জাতীয় সংক্রমণ। এ রোগের জন্য আমরা প্রধানত ছত্রাকনাশক ম্যানকোজেন গ্রুপের ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দিই। সঠিক সময়ে সঠিক ওষুধ প্রয়োগ করলে ভয়ের কোনো কারণ নেই। তবে আলুগাছ ৩০ দিন বয়সী হলে এসব ওষুধ বেশি কার্যকর হয়।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শষ্য) নাজমুল হক ম-ল বলেন, তীব্র শীতের কারণে এই রোগের প্রাদুর্ভাব। শীত কমে গেলেই রোগের প্রকোপ কমে আসবে। সব মিলিয়ে জেলায় সর্বোচ্চ ৫০০ হেক্টর জমির আলুগাছ আক্রান্ত হয়েছে। এজন্য মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় এর কোনো প্রভাব পড়বে না।