শিক্ষকতার পাশাপাশি শখের বসে ক্যালিওগ্রাফি করেন। শতাধিক মানুষকে শিখিয়েছেন ক্যালিওগ্রাফি, পেয়েছেন জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার। পবিত্র কাবার গিলাফের প্রধান ক্যালিওগ্রাফার শায়খ মুখতার আলমের কাছে অনলাইনে ক্যালিওগ্রাফি কোর্স করার সুযোগ হয়েছে তার। ক্যালিওগ্রাফি করে মাসে আয় পঞ্চাশ হাজার টাকার বেশি, এ পর্যন্ত আড়াইশয়ের বেশি ক্যালিওগ্রাফি করেছেন। সফল এই শিল্পীর নাম ইউশা হুসাইন। চট্টগ্রামের আল কোরাআন একাডেমিতে শিক্ষকতার পাশাপাশি ক্যালিওগ্রাফি করছেন তিনি।
কওমি মাদ্রাসায় ইবতেদায়ি বিভাগে খোশখত (সুন্দর লেখা শেখার ক্লাস)-এর ক্লাস করতেন ইউশা। সেখান থেকেই তার সুন্দর লেখার প্রতি আগ্রহে জন্ম। ২০১৮ সালের প্রথমদিকে ক্যালিওগ্রাফি শুরু করেন। এরপর ২০১৯ সালে ক্যালিওগ্রাফার মাহবুব মুর্শিদের কোর্স করেন। অবশ্য তার বড় ভাই মাওলানা আবুল বশর ক্যালিওগ্রাফি করতেন। তার থেকেও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন ইউশা।
নিজে ক্যালিওগ্রাফি করলেও এক সময় ভাবলেন, নতুনদের ক্যালিওগ্রাফি শেখাবেন। ২০২২ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি চট্টগ্রামের সহযোগিতায় আরবি ক্যালিগ্রাফি বেসিক কোর্স শুরু করেন তিনি। এই কোর্সের ৫টি ব্যাচে শতাধিক ছেলেমেয়ে ক্যালিওগ্রাফি শিখেছে। এ ছাড়া ইউশা এমএমআর্ট ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর। চট্টগ্রামের ক্যালিগ্রাফি পেইন্টিং কোর্স ক্যালিওগ্রাফি অ্যাডভান্স কোর্স কো-অর্ডিনেট করেন।
পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব কিছু নয়। ইউশা হুসাইন ‘ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ২০২০-২১’-এর বঙ্গবন্ধু আর্ট কম্পিটিশন সেগমেন্টে রিজিওনাল পর্যায়ে ফাস্ট রানারআপ অর্জন করেন।
আগ্রহীরা ইউশার ক্যালিওগ্রাফি দেখতে ফেসবুকে নিশাতস ক্যালিগ্রাফি ইনস্টিটিউট নামের পেজ অনুসরণ করতে পারেন। দেখার পাশাপাশি অর্ডারও করতে পারবেন। এটি ইউশার নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে তিনি অনলাইন, অফলাইন দুভাবেই শতাধিক মানুষকে ক্যালিওগ্রাফি শিখিয়েছেন।
ক্যালিওগ্রাফি কোর্স তো অনেকেই করায়। তার কোর্সে কোনো ভিন্নতা আছে কিনা জানতে চাইলে ইউশা বলেন, মূলত আমাদের বেশিরভাগ কোর্স তিন মাসব্যাপী। লম্বা সময় ধরে হাতে কলমে সরাসরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে টিউটরিয়াল ভিডিওর মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ক্যালিওগ্রাফিতে যারা নতুন। তাদের জন্য ইউশার পরামর্শ হলো, ক্যালিগ্রাফির প্রতি প্রবল আগ্রহ, প্রচেষ্টা ও ভালোবাসাশ্বি এই তিন জিনিসকে ধারণ করে এই শিল্পে এগিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষকের কাছে শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। আর নিয়মিত দৈনন্দিন চর্চার মাধ্যমে নিজের অগ্রগতি যাচাই করায় ভুল করা যাবে না।
ইউশার ক্যালিওগ্রাফি জীবনে যেমন আনন্দ আছে। তেমনি দুঃখের ঘটনারও কমতি নেই। ওআইসি কর্র্তৃক আয়োজিত বঙ্গবন্ধু আর্ট কম্পিটিশনের পুরস্কার গ্রহণের সময়টা ছিল তার জন্য সবচেয়ে বেশি আনন্দের। আবার দুবাই আল ফুজাইরাহ ফাইন আর্টস ইউনিভার্সিটি কর্র্তৃক আয়োজিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ক্যালিওগ্রাফি প্রতিযোগিতা ২০২২-এ অসুস্থতার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ জমা দিতে না পারাটা তার জন্য অন্যতম দুঃখের ঘটনা।
তবে কাবা শরিফের প্রধান ক্যালিওগ্রাফার শায়খ মুখতার আলমের কাছে আরবি ক্যালিওগ্রাফির খত করার সুযোগ পাওয়ায় তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। ২০২২ সালের শেষ দিকে অনলাইনে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিনি এ কোর্স সম্পন্ন করেন। তার ইচ্ছা, বাংলাদেশকে ক্যালিওগ্রাফির মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা।