আশির দশকের মাঝামাঝি। মেটালে ভাসছে দুনিয়া। নানা ধরনের মেটালের চর্চায় মেতে উঠেছে দুনিয়া কাঁপানো সুপার গ্রুপগুলো। গ্রুভ-থ্র্যাশ থেকে অলটারনেটিভ-ইন্ডাস্ট্রিয়াল বা নিউ ওয়েভ মেটাল সর্বত্রই মেটালের জয়জয়কার। ঠিক এমন এক সময়ই ব্রাজিলের মেট্রোপলিটন বেলো হরিজোন্টের মাটি ফুঁড়ে গজিয়ে উঠল ‘সেপালচুরা’। লাতিন আমেরিকার এই ব্যান্ডটিকে বলা হয় ব্ল্যাক মেটালের পাইওনিয়ার।
প্রায় ৪০ বছর বয়সী এই ব্যান্ডটিতে এখন আর কোনো ফাউন্ডার মেম্বার নেই। ক্যাভালেরা ভ্রাতৃদ্বয় ব্যান্ড ছেড়েছেন সেই কবে। ম্যাক্স ছেড়েছেন ১৯৯৬-তে আর তার ১০ বছর পর ইগোর।
‘সেপালচুরা’ মূলত একটি পর্তুগিজ শব্দের অর্থ সমাধি। বিখ্যাত ইংলিশ ব্যান্ড মোটরহেডের একটি গান ‘ডান্সিং অন ইওর গ্রেভ’ থেকে নামটি ইন্সপায়ার্ড। আর এর গান অর্থাৎ সেপালচুরার মিউজিক টেস্ট আশির দশকের শীর্ষ তিন ব্যান্ড থেকে এসেছে। এরা হলো লেড জেপেলিন, ব্ল্যাক সাবাথ ও ডিপ পার্পল। এ ছাড়া ভ্যান হ্যালেন, আয়রন মেইডেন, এসি ডিসি, জুডাস প্রিস্ট বা ওজি অজবর্নেরও যথেষ্ট প্রভাব লক্ষ করা যায় তাদের মিউজিকে।
এক সাক্ষাৎকারে ব্যান্ডের গিটারিস্ট আঁদ্রে কিজার বলেছিলেন, এসব নয়, তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব জার্মান ডেথ মেটাল ব্যান্ড ‘ডেসট্রাকশন’ ও মার্কিন ডেথ মেটাল ব্যান্ড ‘প্রসেসড’-এর। তবে নিজেদের মিউজিককেও ভুলে যাননি তারা। তাদের গানে কোনো না কোনোভাবে ঘটেছে লাতিন সুর, সাম্বা এবং ব্রাজিলিয়ান ফোক ও ট্রাইবাল সংগীতের মিশ্রণ। সেপালচুরা যেন এক দো-আঁশলা রক, এক অন্য গ্রহের সংগীত।
ব্যান্ড গঠনের দুবছর পর আসে তাদের প্রথম অ্যালবাম মরবিড ভিশনস (১৯৮৬)। খুব একটা সফল ছিল না অ্যালবামটি। পরেরটি বা তার পরেরটিও নয়। তবে ‘অ্যারাইজ’-এর সাফল্য চমকে দেয় তাদের নিজেদেরই। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে ওঠে নতুন ধারার এক লাতিন থ্র্যাশ সাউন্ড, যা বুঝতে একটুও কষ্ট হয়নি সাধারণ শ্রোতাদের। তারা বুঝতে পারেনÑ নতুন এক বিশেষ হেভি ডিউটি সাউন্ড আসছে দুনিয়া জয় করতে।
এরপর আসে ‘রুটস’। দানবে পরিণত হয় সেপালচুরা। আসল রূপে আবির্ভূত হয়। অ্যালবামের ‘রুটস ব্লাডি রুটস’ নামের টাইটেল গানটি অসাধারণ সাফল্য পায়। রকপ্রেমী মানুষের মুখে মুখে ফেরে সেই গান। তবে এই অ্যালবামের পরই ব্যান্ড ছাড়েন অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও ভোকাল-ফ্রন্টম্যান ম্যাক্স ক্যাভালেরা।
নব্বই দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যান্ড বলা হয় সেপালচুরাকে। বলা হয় ব্রাজিলের সবচেয়ে সফল ব্যান্ড। এ রকম অনেক তকমা আছে এই সুপার গ্রুপটির। এখনো নিউ ওয়েভের বহু ব্যান্ড এই সেপালচুরাকেই তাদের আদর্শভাবে। তারা মনে করে নতুন প্রজন্মের আদর্শ হিসেবে এর চেয়ে ভালো কোনো ব্যান্ড আর পৃথিবীতে নেই।
গানের গল্প
সেপালচুরার ষষ্ঠ স্টুডিও অ্যালবামের টাইটেল ট্র্যাক ‘রুটস ব্লাডি রুটস’। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখে গানটি অবমুক্ত হয়। ৩ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের গানটি গ্রুভ মেটাল জনরার। গানটিকে ব্যান্ডটির সবচেয়ে জনপ্রিয় গানগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়।
গানটির একটি দারুণ মিউজিক ভিডিও আছে, যা নির্মাণ করেন থমাস মিগনোন। এটি ওই বছরের সেরা মিউজিক ভিডিওর সম্মাননা পায়।
গানটি সম্পর্কে একাধিক মিউজিক ম্যাগাজিন বলে এটি ছিল ওই সময়ের (মধ্য নব্বই দশক) সেরা গানগুলোর একটি। ভীষণ পাওয়ারফুল, অনন্য কম্পোজিশন এবং এক কথায় একটি ব্যান্ডের শক্তি মত্তার পরিচয় দানকারী। এটি ব্রাজিলিয়ান রককে বিশ্বের কাছে প্রমোট করার জন্য একমাত্র উদাহরণ হিসেবেও মনে করেন অনেক সংগীতবোদ্ধা।