বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া আক্রান্ত শিশুদের অস্ত্রোপচার হচ্ছে বিএসএমএমইউতে

দেশে জন্ডিসে আক্রান্ত নবজাতকদের একটা বড় অংশ জন্ডিসজনিত ‘বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া’ রোগে আক্রান্ত। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না হলে এসব শিশুর লিভার নষ্ট হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে। এসব শিশুদের জীবন বাঁচাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) জাপানি সার্জন ডা. মোরিও কাসাই উদ্ভাবিত ‘কাসাই পোর্টোয়েন্টরোস্টমি’ নামক সফল কাসাই অস্ত্রোপচার করছেন চিকিৎসকরা।

গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে ‘শিশুদের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন ও নতুন জীবনের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পেডিয়াট্রিক সার্জারি (শিশু সার্জারি) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সুশংকর কুমার মণ্ডল ও সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম সাইফুল ইসলাম।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএসএমএমইউতে শিশুদের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা নিশ্চিত করতে পারলে বিদেশে যাওয়ার রোগীর প্রবণতা আরও কমে আসবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

সেমিনারে জানানো হয়, বিএসএমএমইউ এর শিশু সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে কাসাই অপারেশনের যাত্রা শুরু ও এখনো তা অব্যাহত রয়েছে।

সেমিনারে অধ্যাপক ডা. এ কে এম জাহিদ হোসেন বলেন, বিএসএমএমইউতে অতি অল্প খরচে দীর্ঘদিন যাবৎ কাসাই অপারেশন হয়ে আসছে। ফলাফল আশাব্যঞ্জক। বিএসএমএমইউতে শিশুদের লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানান এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। 

সেমিনারে জানানো হয়, দেশের জনসংখ্যার প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ শিশু। এই শিশুদের মধ্যে যারা নবজাতক তাদের একটা বৃহৎ অংশ জন্ডিসে ভোগে। পিত্তনালির জন্মগত ত্রুটির কারণে যে জন্ডিস হয় তার একটা বড় অংশ হয় বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়ার কারণে।