শেরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বন্ধ করা অবৈধ দুটি ইটভাটা দুদিন পরই ফের চালু করার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত বুধবার শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ইন্দিলপুর এলাকার ফাতেমা ব্রিক্স এবং সদর উপজেলার এমএস ব্রিক্সে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে পরিচালনা ও বনের কাঠ পোড়ানোর দায়ে বন্ধ ঘোষণা করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই সময় প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং চুল্লির আগুন নিভিয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শেরপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালাউদ্দিন বিশ্বাস।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভাটা বন্ধের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই চলছে ইট প্রস্তুতের সব আয়োজন। শ্রমিকদের কেউ মাটি ভাঙছেন, কেউ ইট তৈরি করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত চুল্লির আগুন জ্বালাতে। ট্রাকভর্তি মাটি ঢুকছে কিছুক্ষণ পরপর। নিয়ে আসা হচ্ছে বনের কাঠও। দেখে বোঝার উপায় নেই দুদিন আগে ভাটা দুটিতে অভিযান চালানো হয়েছিল।
ইটভাটার কয়েকজন শ্রমিক জানান, ভাটা কোনো সময়ই বন্ধ হয়নি। ভাটা বন্ধ ঘোষণার দুই ঘণ্টা পরই আবার ইট পোড়ানো শুরু হয়েছে। ফাতেমা ব্রিক্সের মালিক ফারুক হোসেন বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রত্যেক বছরই জরিমানা করে এবং বন্ধ ঘোষণার কথা বলে যায়। এটা তাদের রুটিন ডিউটি। শেরপুরের সব ইটভাটা এভাবেই পরিচালিত হয়। আমিও ওইভাবেই ভাটা চালাচ্ছি।’
এসএম ব্রিক্সের মালিক মোতালেব হোসেন বলেন, ‘এ বছর ভাটায় আগুন দেওয়ার আগে ডিসি অফিস থেকে অনুমতি নিয়েছি। সরকারকে সাড়ে চার লাখ টাকা ভ্যাট দিয়েছি। এভাবে হুট করে বন্ধ ঘোষণা করার কথা বললেও ভাটা বন্ধ করা যাবে না।’
শেরপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর কুতুবে আলম সিদ্দিক বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেটসহ আমরা বুধবার দুটি ইটভাটা বন্ধ করে দিয়েছি। তারা আবার কীভাবে ভাটা চালাচ্ছে। আপনি এ ব্যাপারে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’ এ বিষয়ে কথা বলতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালাউদ্দিন বিশ্বাসের কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।