দুই শিশুসন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা!

খুলনায় পারিবারিক কলহের জের ধরে সাত মাস ও ছয় বছরের দুই শিশুসন্তানকে হত্যার পর মা আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার বেলা ৩টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রাম থেকে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মৃতরা হলো কমলাপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান সরদারের স্ত্রী ডলি বেগম (৩৮), মেয়ে ফাতেমা (৬) ও ছেলে ওমর (৭ মাস)। ডলি বেগম আত্মহত্যা করেছেন এবং তার আগে দুই শিশুসন্তানকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ডলি বেগমের স্বামী আব্দুল মান্নান সরদার লেকসাস গাইড বইয়ের একজন মার্কেটিং অফিসার। প্রতিদিন সকালে তিনি বাড়ি থেকে কর্মস্থল খুলনার উদ্দেশে বেরিয়ে যান। তবে গতকাল শনিবার ছুটি থাকায় তিনি ডুমুরিয়া বাজারের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বাড়িতে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। এ সময় তিনি স্ত্রী-সন্তানদের ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে পাশে চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে যান। সেখানে স্ত্রী ও সন্তানদের না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। পরে হাঁসুয়া দিয়ে দরজার খিল খুলে স্ত্রী ডলি বেগমকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং শিশুসন্তান ফাতেমা ও ওমরের লাশ ঘরে পড়ে থাকতে দেখেন।

প্রতিবেশীরা আরও জানান, পারিবারিক কোনো কারণে সকালে শাশুড়ির সঙ্গে ডলি বেগমের ঝগড়া হয়েছিল। হয়তো তার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। ডলি বেগম একটু রাগী প্রকৃতির ছিলেন। তবে স্বামী মান্নানের সঙ্গে কখনো তাকে ঝগড়া করতে তারা দেখেননি।  স্থানীয় গুটুদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর গ্রামের মেম্বর ইজ্জত আলী বলেন, ‘দুপুরে মান্নানের চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে তাদের দাওয়াত ছিল। ছুটির দিন দাওয়াত থাকার কারণে মান্নান বাড়ি থেকে দূরেও যায়নি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সে বাড়িতে ফিরে তার স্ত্রী, সন্তানদের মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।’

ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত সাহা বলেন, ‘খবর পেয়ে বেলা ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের পর বলা যাবে, কী কারণে ও কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে।’

খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান বলেন, ‘সবকিছু দেখে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, মা ডলি বেগম আত্মহত্যা করেছেন। তবে আত্মহত্যার আগে তিনি তার দুই শিশুসন্তানকে হত্যা করেন। এ ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত তদন্ত করে দেখছি।’