সেদিনের সেই শিশুটি হয়তো আজ নতুন সংসার গড়েছে। আজকের অনেক পরিণত সন্তানটিও হয়তো সেদিন ছিল মাতৃগর্ভে। হয়তো উইন্ডিজ দলে খুঁজলে এমন অনেককেই পাওয়া যেতে পারে। ওয়েস্টইন্ডিজ দলের কথা এখানে আসছে কারণ, মূল প্রসঙ্গে জড়িয়েই তারা। ব্রিসবেনে তারা নতুন করে লিখেছে ক্যারিবিয়ান রূপকথা। যা থেমে গিয়েছিল ১৯৯৭ সালে। সে বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াকা ১০ উইকেটে জয় পেয়েছিল। তারপর থেকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আর কখনো জয়ের দেখা পায়নি দেশটি। ২৭ বছর পর ৮ রানের জয়ে স্মৃতি ফিরিয়ে আনল তারা।
রুদ্ধশ্বাস সমাপ্তির এই টেস্ট ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে মাত্র ৮ রানে। আগের দিন ব্যাটিংয়ের সময় ডান পায়ের আঙুলে চোট যার বোলিং করাই অনিশ্চিত ছিল, সেই শামার জোসেফ ৬৮ রানে নিয়েছেন ৭ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার শেষ উইকেটটি তুলে নিয়ে টেস্ট ম্যাচ শেষও করে দিয়েছেন তিনি।
অ্যাডিলেডে সিরিজের প্রথম টেস্টে তিন দিনের মধ্যে হেরে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্রিসবেনে দিবারাত্রির ম্যাচটিতেও সহজেই হেরে যাবে বলে মনে করেছিলেন অনেকেই। প্রথম ইনিংসে ৩১১ রানে অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
কিন্তু কেমার রোচ আর আলজারি জোসেফের অসাধারণ বোলিংয়ের পর অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ৯ উইকেটে ২৮৯ রান তুলে। দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয়ে যায় মাত্র ১৯৩ রানে, অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য দাঁড়ায় ২১৬। ২ উইকেটে ৬২ রান তুলে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করা অস্ট্রেলিয়া জয়ের পথেই ছিল। কিন্তু আজ চতুর্থ দিনে ৬৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে জোসেফ পাশার দান পাল্টে দেন। তিনিই জিতে নেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
শেষবেলায় বীরত্ব দেখানোর সুযোগ ছিল স্টিভ স্মিথের। এক প্রান্ত শুরু থেকেই আগলে রেখেছিলেন তিনি। ৯১ রানে অপরাজিতও থাকেন। তবে জশ হ্যাজেলউডের উইকেট তুলে নিতেই নিভে যায় সব আশার আলো।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩১১ ও ১৯৩।
অস্ট্রেলিয়া: ২৮৯/৯ ডিক্লে. ও ৫০.৫ ওভারে ২০৭ (স্মিথ ৯১*, গ্রিন ৪২, স্টার্ক ২১, খাজা ১০, মার্শ ১০, লায়ন ৯; শামার ৭/৬৮, ২/৬২, গ্রিভস ১/৪৬)
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ রানে জয়ী। সিরিজ: ২ ম্যাচের সিরিজ ১–১ ড্র। ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ: শামার জোসেফ।