ইসরায়েলের অব্যাহত বোমা হামলা ও স্থল অভিযানের কারনে বাড়িঘর হারিয়ে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজার জনসংখ্যার বেশিরভাগই থাকছেন বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ও অস্থায়ী তাঁবুতে। এর মধ্যেই ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে নতুন সংকটের মুখে পড়েছেন তারা।
স্থানীয় সময় শুক্রবার গাজায় ভারী বর্ষণের ফলে প্লাবিত হয়েছে আশ্রয় শিবির। এতে করে আরও দুর্ভোগ নেমে এসেছে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ ফিলিস্তিনিদের জীবনে। আশ্রয় শিবিরগুলোতে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু ও আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবারে প্রবল বৃষ্টির পানিতে গাজায় হাজার হাজার আশ্রয় শিবির ডুবে যায়। এর ফলে তাঁবু ও শিবিরে আশ্রয় নেয়া বাসিন্দারা জিনিসপত্র এবং কম্বল ও গরম কাপড় ছাড়াই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
ফিলিস্তিনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, ‘ভারী বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানি সরানোর জন্য পাম্পগুলো চালাতে এবং বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধারকারী যানগুলো নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় পরিমাণে জ্বালানির অভাব রয়েছে, যা সিভিল ডিফেন্স ক্রুদের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’
এছাড়া তাঁবুতে নোংরা পানি জমে থাকায় মানুষের মাঝে সংক্রামক রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলের অবিরাম হামলার মধ্যেই বৃষ্টি ও ঠান্ডা আবহাওয়া ফিলিস্তিনের এই উপত্যকাটিকে "সম্পূর্ণভাবে বসবাসের অযোগ্য" করে তুলছে বলে সতর্কবার্তা জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা (ওএইচসিএইচআর)।
শুক্রবার অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওএইচসিএইচআর-এর প্রধান অজিথ সুংহে বলেন, "আমি আশঙ্কা করছি যে আরও অনেক বেসামরিক লোক মারা যাবে।"
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে একটি অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে। বেশিরভাগেরই গরম কাপড় বা কম্বল নেই।‘
গাজায় জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সংস্থার পরিচালক জর্জিওস পেট্রোপোলোস আল জাজিরাকে বলেন, দীর্ঘ এই যুদ্ধের কারণে উপত্যকাটিতে ২২ লাখ মানুষ অনাহারে পরার ঝুঁকিতে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, "গাজার প্রত্যেকেরই এখন সাহায্য প্রয়োজন এবং যুদ্ধ অবশ্যই থামাতে হবে।"