ভ্যান চালিয়ে লেখাপড়া, ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে কাজের চাপ

দায়িত্ব আর কাজের চাপও কখনো কখনো হার মানে প্রবল ইচ্ছাশক্তির কাছে। তারই উদাহরণ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামের আবদুস সালাম শেখের ছেলে ভ্যানচালক মো. সাহাদাৎ হোসেন। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি পড়ালেখাও চালিয়ে যাচ্ছেন ৩৭ বছর বয়সী সাহাদাৎ। পরিবারের দায়িত্ব, স্ত্রী-সন্তানদের প্রতি কর্তব্য, বয়সের ছাপ, শিক্ষাজীবনে একের পর এক অকৃতকার্যতা, এর কোনোটাই দমাতে পারেনি তাকে। বর্তমানে স্থানীয় একটি সরকারি কলেজে স্নাতক ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাহাদাৎ। এর আগে পঞ্চমবারের চেষ্টায় তিনি উচ্চমাধ্যমিকে কৃতকার্য হন। সংসার আর ভ্যান চালানোর পাশাপাশি লেখাপড়া করেই তিনি মাধ্যমিকে কৃতকার্য হন।

ভ্যানচালক সমিতির বোয়ালমারী পৌর শাখার সভাপতি সাহাদাতের স্বপ্ন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা। পড়ালেখা করে চাকরি করা তার উদ্দেশ্য নয়, উচ্চশিক্ষিত হওয়া তার বাসনা। তিনি বিশ বছর ধরে ভ্যান চালিয়ে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ভ্যান চালানোর পাশাপাশি লেখাপড়া শেখার অদম্য আগ্রহের কারণে রাতে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে এবং মাঝেমধ্যে দিনের অবসরে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইংরেজিতে তার ভালো দখল ও আগ্রহ। ব্যক্তিগত জীবনে সাহাদাৎ তিন সন্তানের জনক। অল্প বয়সে ভ্যান চালিয়ে সংসারের হাল ধরায় লেখাপড়ায় খানিকটা ছেদ পড়ে। এজন্য তিনি একটু বেশি বয়সেই ২০১৪ সালে মাধ্যমিক পাস করেন। পরে ২০২০ সালে উচ্চমাধ্যমিকে কৃতকার্য হন।

সাহাদাতের ৯ বছর বয়সী মেয়ে আঁখি সুলতানা ময়না ইউনিয়নের গৌরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে এবং ৬ বছর বয়সী বড় ছেলে মোহাম্মদ আলী একই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। ছোট ছেলে হেদায়েত উল্লাহর বয়স দুই বছর।

পৈতৃক সম্পত্তির মধ্যে একটি টিনের ঘরে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে থাকেন সাহাদাৎ। এ ছাড়া ১০ শতাংশ ফসলি জমি আছে। ভ্যান চালিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ টাকা আয় হয় তার। এ দিয়েই টেনেটুনে সংসার চলে।

সাহাদাৎ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যত বছরই লাগুক না কেন আমি এমএ পাস করবই। এটা আমার স্বপ্ন। চাকরির জন্য না, উচ্চশিক্ষিত হতে চাই আমি।’