সম্প্রতি ফোকলোর শাখায় বাংলা একাডেমি পুরস্কার-২০২৩ পাওয়া তপন বাগচীর বিরুদ্ধে অন্যদের সম্পাদিত লোকসাহিত্য বিষয়ক বই থেকে হুবহু লেখা চুরির অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে দুই লেখক ও সংগ্রাহক ইকবাল জাফর ও মহসীন দেওয়ান লিটন এ অভিযোগ তোলেন। এ সময় তারা বাংলা একাডেমির পুরস্কারের তালিকা থেকে তপন বাগচীর নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল জাফর ও মহসীন দেওয়ান লিটন বলেন, তাদের সংগৃহীত-সম্পাদিত-প্রকাশিত গ্রন্থ গীতিগ্রন্থ (মরমী সাধক মাতাল কবি আব্দুর রাজ্জাক দেওয়ান: বাউল অঞ্চলী, প্রথম খণ্ড) এবং স্মারকগ্রন্থ (মরমী সাধক মাতাল কবি আব্দুর রাজ্জাক দেওয়ান স্মারকগ্রন্থ: যদি ভুল বুঝে চলে যাও) প্রকাশের পর তা থেকে সব গান চুরি করা হয়েছে। আসল বইটির সংগ্রাহক-সম্পাদক-প্রকাশকদের কৃতিত্ব বাদ দিয়ে নিজেকে সম্পাদক দাবি করে মূল কৃতিত্ব নিয়েছেন তপন বাগচী।
তারা বলেন, আমাদের একটি বই প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে। অন্যটি প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে। আর তপন বাগচী দুই বই থেকে কপি করে ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তা নিজের নামে প্রকাশ করেছেন। ওই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে সেই বইটি বিক্রি, প্রদর্শন ও বহন নিষিদ্ধ করে নোটিশ দেয় বাংলা একাডেমি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ইকবাল জাফর ও মহসীন দেওয়ান লিটন আরও বলেন, যার বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ রয়েছে তিনি কীভাবে বাংলা একাডেমির মতো একটি পুরস্কারে মনোনয়ন পান? তার মতো এমন একজন ব্যক্তিকে পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে বাংলা একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার কলঙ্কিত হোক আমরা তা চাই না। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হোক। না হলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।