বরগুনার তালতলীতে দোয়েল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজার অপারেশনের সময় নবজাতকের পিঠ কেটে গেছে। গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা হাসপাতালের পূর্বপাশের দোয়েল ক্লিনিকে এক ভাড়াটে চিকিৎসক ঘটান এই কান্ড।
নবজাতকের বাবা ইব্রাহিম খলিলের ভাষ্যমতে, স্ত্রীর ব্যথা উঠলে তাকে দোয়েল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে কিছু টেস্ট দিলে এগুলোর ফল দেখে ক্লিনিকের চিকিৎসক রুনা রহমান বলেন, ‘দ্রুত সিজার না করা হলে বাচ্চাকে বাঁচানো যাবে না।’ পরে দোয়েল ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ১৮ হাজার টাকায় চুক্তি করেন যে একজন বিশেষজ্ঞ সার্জনকে দিয়ে সিজার অপারেশন করাবেন। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলে ডা. রুনা রহমান সিজার করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা অপারেশন থিয়েটারে রেখে সিজার করা হয়। এ সময় নবজাতকের পিঠ কেটে ফেলেন ওই ডাক্তার। এর কিছুক্ষণ পর নবজাতককে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘বাচ্চার পিঠ গভীরভাবে কেটে ফেলার বিষয়ে কাউকে কিছু বলেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা ডাক্তার। দীর্ঘক্ষণ নবজাতকের কান্নাকাটি করার একপর্যায়ে দেখা যায় পিঠ থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পরে আবার ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি বিষয়টিকে অতটা গুরুত্ব দেননি। বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থালে পুলিশ যায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এদিকে, ক্লিনিকটিতে এর আগেও অপারেশনের সময় নবজাতক মারা যাওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে দোয়েল ক্লিনিকের মালিক রাসেল মিয়াকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। চিকিৎসক রুনা রহমানের ফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে। তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন পোদ্দার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. ফজলুল হক বলেন, ‘নবজাতকের পিঠ কেটে ফেলার খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং আরএমওকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। সব যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালতলী থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাইনি। খবর পেয়ে ক্লিনিকে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। তারা গা-ঢাকা দিয়েছে।’