নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বৈধ গ্রাহকদের চেয়ে প্রায় তিন-চার গুণ বেশি অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারী রয়েছেন। যাদের কারণে বৈধ গ্রাহকরা তাদের প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। দফায় দফায় অভিযান চালিয়েও বন্ধ করা যাচ্ছে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ। এ ছাড়া অবৈধ সংযোগকারীদের গ্যাস সংযোগ বন্ধ করতে গিয়ে মাঝে মাঝেই মূল গ্যাসলাইন বন্ধ করে দিচ্ছে তিতাস। এতেও ভোগান্তি পোহাচ্ছেন গ্রাহকরা।
সোনারগাঁ উপজেলায় বাসাবাড়ি ও ক্ষুদ্র শিল্প কারখানাসহ প্রায় ২৫ হাজারের মতো অবৈধ সংযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে উপজেলার পিরোজপুর, মোগরাপাড়া, কাঁচপুর, সাদিপুর ও পৌর এলাকায় সবচেয়ে বেশি অবৈধ সংযোগ চালু রয়েছে। বাকি ইউনিয়নগুলোতে বিভিন্ন সময় তিতাস কর্র্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও এ পর্যন্ত কী পরিমাণ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন তার কোনো পরিসংখ্যান দিতে পারেনি তিতাস কর্র্তৃপক্ষ।
অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নিয়ে তিতাস কর্র্তৃপক্ষ ও সংযোগকারীদের মধ্যে চলছে চোর-পুলিশ খেলা। একদিকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ, অপরদিকে পুনরায় দেওয়া হচ্ছে সংযোগ। এক যুগ ধরে সোনারগাঁয়ের একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটছে। তিতাস কর্র্তৃপক্ষ দফায় দফায় অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নেরঅভিযান পরিচালনা করলেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। স্থানীয়রা বলছেন, তিতাস কর্র্তৃপক্ষের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে বন্ধ করা যাচ্ছে না অবৈধ সংযোগ।
কয়েক বছরে যে কয়টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, এর সিহংভাগ সংযোগ আবারও দেওয়া হয়েছে। এলাকাভিত্তিক সিন্ডিকেট রাইজারপ্রতি এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নিচ্ছে। এ ছাড়া এই অবৈধ সংযোগকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মামলা বা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে না অজ্ঞাত কারণে।
২০১৩ সালে তিতাস কর্র্তৃপক্ষ আবাসিক গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ করার পর সারা দেশের মতো সোনারগাঁয়েও অবৈধ গ্যাস সংযোগের হিড়িক পড়ে। উপজেলার বৈদ্যেরবাজার, বারদী, সনমান্দী, মোগরাপাড়া. পিরোজপুর, কাঁচপুর, সাদিপুর, শম্ভুপুরা ও জামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় মূল গ্যাসলাইন থেকে দুই-তিন ইঞ্চি পাইপের মাধ্যমে অবৈধভাবে দীর্ঘ লাইন টানা হয়। এসব লাইন থেকে হাজার হাজার রাইজারের মাধ্যমে পাড়া-মহল্লায় অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সনমান্দী ইউনিয়নের একজন অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারী বলেন, ‘লাইন টানার সময় দালালরা আমাদের বলেছিল এই সংযোগ পরে বৈধ করা হবে কিন্তু ১০ বছরেও তা আর বৈধ করা হয়নি। এখন বুঝতে পারছি, এটা আসলে অবৈধ সংযোগ। পিরোজপুর এলাকার বাসিন্দা রাকিব বলেন, ‘আমরা বৈধ গ্যাস সংযোগ নিতে চাই। কিন্তু সরকারিভাবে সেটা বন্ধ আছে। তাই বাধ্য হয়েই অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে।’
পৌর এলাকার বৈধ গ্রাহক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা বৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে মাসে মাসে বিল পরিশোধ করছি, কিন্তু অবৈধ সংযোগকারীরা তিতাসকে কোনো বিল পরিশোধ করছে না। অথচ তারা আমাদের মতোই সুবিধা পাচ্ছে।’
তিতাস গ্যাস মেঘনাঘাটের আঞ্চলিক অফিসের ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তিতাস কর্র্তৃপক্ষ অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে প্রতিনিয়তই অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী মহল বা বিভিন্ন সিন্ডিকেট অবৈধ পন্থায় গ্যাস সংযোগ দিয়ে থাকে। এর সঙ্গে তিতাস কর্র্তৃপক্ষের কারও হাত নেই।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত বলেন, ‘গ্যাস আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটি রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। অবৈধ সংযোগ নেওয়া একটি অপরাধ।’