দেশে নিপাহ ভাইরাসে বছরের প্রথম মারা যাওয়া ব্যক্তি খেজুরের কাঁচা রস খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তার নমুনা পরীক্ষায় নিপাহ পজিটিভ শনাক্ত হয় ও গত রবিবার তিনি মারা যান।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, খেজুরের কাঁচা রস খাওয়ার ১৮ দিনের মাথায় ওই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে টানা ১১ দিন হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা নেওয়ার পর মারা যান। গত রবিবার অধিদপ্তরকে এই প্রতিবেদন দেয় আইইডিসিআর।
আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিপাহ ভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তির বয়স ৩৮ বছর। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার মান্তা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। গত ১৮ জানুয়ারি তাকে ধানম-ির পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর তিনি খেজুরের কাঁচা রস পান করেছিলেন। এরপর গত ১১ জানুয়ারি তার জ¦র দেখা দেয়। তিনি ৩১ ডিসেম্বরের পর থেকেই শ্বাসকষ্ট ও অনিদ্রায় ভুগছিলেন।
গত ১৬ জানুয়ারি তাকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দুদিন পর ১৮ জানুয়ারি প্রথমে মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে রাজধানীর ধানম-ির পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ভর্তির তিন দিন পর ২১ জানুয়ারি হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ আইইডিসিআরকে ওই রোগীর উপসর্গ সম্পর্কে জানায় এবং সে দিনই আইইডিসিআর ওই রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে। সে দিনই নমুনা পরীক্ষা করে ওই ব্যক্তির শরীরে নিপাহ ভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হয়।
নিপাহ ভাইরাস শনাক্তের ছয় দিন পর ২৭ জানুয়ারি রোগীকে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এই হাসপাতালেই তিনি গত ২৮ জানুয়ারি রবিবার দুপুর দেড়টায় মারা যান।
আইইডিসিআর আরও জানায়, নিপাহ ভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ৯১ জনকে পিসিআর ও নিপাহ আইজিএম টেস্ট করা হয়। তাদের মধ্যে মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিবারের ১১ জন, ২০ জন গ্রামের লোকজন এবং ৬০ জন চিকিৎসা নেওয়া হাসপাতালের চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন।