নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনে একই পরিবারের ৬ জন দগ্ধের ঘটনায় চিকিৎসাধীন ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন জান্নাতি আক্তার (১৬) ও রহিমা আক্তার (৩২)। তারা সম্পর্কে মামাতো-ফুপাতো বোন।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে জান্নাতি ও গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে মারা গেছেন রহিমা।
এর আগে গত বুধবার দিবাগত রাত দশটার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার বার্মাশীল বাঘপাড়া এলাকার একটি টিনসেড বাড়িতে গ্যাস লিকেজ থেকে এই আগুনের ঘটনা ঘটে।
এতে দগ্ধ হন, সুখী আক্তার (৩২), তার মেয়ে সাদিয়া (১০), বোন জান্নাতি (১৮), ভাই আরিফ হাওলাদার (২১), ফুফাতো বোন রহিমা আক্তার (৩২) ও রহিমার মেয়ে ঋতু (১৩)।
মৃত রহিমার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জানান, বাঘপাড়া এলাকায় টিনশেড বাসাটিতে সুখি ও তার পরিবার ভাড়া থাকেন। তার স্বামী নূর মোহাম্মদ চাকরি করেন। ঘটনার ৩ সপ্তাহ আগে তাদের একটি সন্তান হয়। তাদের সেই বাচ্চাকে দেখতে স্বজনরা সেই বাসায় গিয়েছিলেন। রাতে সেই বাসায় হঠাৎ আগুনের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি বলেন, ওই বাসায় ঘটনার ২-৩ দিন আগে থেকে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিলো। বিষয়টি সুখি ও তার স্বামী বাড়িওয়ালাকে জানিয়েছিলেন। তবে তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরবর্তীতে বুধবার রাতে মশার কয়েল জালানোর সময় ঘরে আগুন ধরে যায়। এতে ৬ জন দগ্ধ হন।
স্বজনরা জানান, রহিমা স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ১ ছেলে ও ২ মেয়ের জননী তিনি। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালির গলাচিপা উপজেলায়।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. তরিকুল ইসলাম জানান, রহিমার ৪৫ শতাংশ ও জান্নাতির ১৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিলো। এই ঘটনায় ভর্তি আছেন সুখি আক্তার ও ঋতু। বাকি দুজনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।