চরম শ্রমিক–সংকটে ভুগছে ইউরোপের দেশ জার্মানি। দেশটির বেশীরভাগ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ পরিচালনার জন্য শ্রমিকের শূন্য পদ পূরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
দক্ষ কর্মির অভাবে থমকে গিয়েছে দেশটির শিল্প, কমেছে উৎপাদন। কর্মী সঙ্কটে জর্জরিত জার্মানি সমাধান খুঁজতে মরিয়া। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করতে উদ্যোগী হচ্ছে সরকার। খবর আনন্দবাজার ও রয়টার্স।
বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর মতো দক্ষ ও সর্বোচ্চ বৃদ্ধি খাতে চরম শ্রম ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে জার্মানি। শ্রম ঘাটতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির শিল্প ও নির্মাণ খাত। এই খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে অর্ধেকের বেশি কোম্পানি শ্রমিকদের শূন্য পদ পূরণে হিমশিম খাচ্ছে।
সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে জার্মানে ১০টি কোম্পানির মধ্যে ৮টি কোম্পানিই শ্রমের ঘাটতিতে রয়েছে।
শ্রমিক বাড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফরে যাচ্ছেন জার্মানের বিভিন্ন মন্ত্রীরা। জার্মানির ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুসারে, সে দেশে বিভিন্ন খাতে চাকরিতে ১৭ লাখেরও বেশি শূন্যপদ রয়েছে।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে বর্তমান পরিস্থিতিতে জার্মানিতে প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ শ্রমিকের প্রয়োজন।
বর্তমানে জার্মানি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টেইনমায়ার ও শ্রমমন্ত্রী হুবার্টাস হেইল ভিয়েতনাম সফরে রয়েছেন। জার্মানিতে কাজ করতে আসার জন্য সে দেশের তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করাই সফরের মূল উদ্দেশ্য।
সংবাদমাধ্যম ডিডব্লিউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিয়েতনামি-জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীদের থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন জার্মান প্রেসিডেন্ট। জার্মানের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করার ব্যাপারে উৎসাহ দেখিয়েছে ভিয়েতনামের শিক্ষার্থীরা।
জার্মানে শ্রমিক বাড়াতে ২০২৩ সালের শেষের দিকে নতুন অভিবাসন আইন প্রণয়ন করেছে দেশটির সরকার। যার ফলে জার্মানিতে সহজেই নাগরিকত্ব পাবেন অভিবাসীরা।
নতুন অভিবাসন আইন অনুযায়ী জার্মানিতে পাঁচ বছর বসবাস করলেই বিদেশিরা জার্মান পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এমনকি ইন্টিগ্রেশন বা জার্মান সমাজে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য ‘অসাধারণ যোগ্যতা' অর্জন করলে তিন বছরের মধ্যেই নাগরিকত্ব অর্জনের সুযোগ রাখা হয়েছে।