‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয় ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি যা পরে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ‘আমার সোনার বাংলা’ সম্মিলিত কণ্ঠে গাওয়া হয়েছিল। এই কণ্ঠশিল্পীদের একজন ছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন।
দেশের জনপ্রিয় এই গায়িকা বলেন, ‘আসলে জীবন থেকে নেয়া চলচ্চিত্রে আমি গেয়েছি ওই একটাই গান। আমার সোনার বাংলা। হ্যাঁ, এটা পরবর্তীতে জাতীয় সংগীত হয়ে যায়। কিন্তু এটা রেকর্ড করা হয়েছিল আরো বেশ কয়েক বছর আগে। আর এই গান নিয়ে আমার জহির রায়হানের সঙ্গে কথা হয়নি। কথা হয়েছিল খান আতার সঙ্গে।’
সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমিও যতদূর জানি জহির রায়হান কথা কম বলতেন। আমার সঙ্গে দেখা হয়েছে একবার। তেমন কথা হয়নি। আমার প্রথম প্লেব্যাক ১৯৬৭ সালে। এটা জহির রায়হানের হাত ধরেই। ‘আগুন নিয়ে খেলা’ ছবিতে আমি প্রথম প্লেব্যাক করি। এই ছবির গানগুলো জহির রায়হান দেখাশোনা করেছেন।’’
প্রথম প্লেব্যাকের অভিজ্ঞতা জানিয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘আলতাফ মাহমুদের বাসা আমাদের বাসার পাশেই ছিল। তিনি আমার মা'কে রাজি করালেন। তার আগে আমি ছোটদের গান করতাম। মা বললেন, আর কত ছোটদের গান করবি। এটা কর। তারপর গাওয়া হলো। দেড় মাসের মতো সে গানের খোঁজ পেলাম না। জানতেই পারলাম না গানটি ঠিকঠাক হয়েছিল কি না।’
জনপ্রিয় এই গায়িকা বলেন, ‘কিন্তু দেড় মাস পর আলতাফ মাহমুদ হাজির হলেন। বললেন, ওই ছবির আরেকটা গান গাইতে। সেসময়ই তিনি বললেন যে, জহির রায়হান সাহেব গানটা খুব পছন্দ করেছেন। তিনি প্রশংসা করেছেন। আমি এ কথা শুনে খুব আনন্দিত হয়েছিলাম। গর্বে বুকটা ভরে উঠেছিল। আমি জানি না ছবিটি কে তখন পরিচালনা করেছিলেন। কিন্তু নেপথ্যে ছিলেন জহির রায়হান। আমি জহির রায়হানের বানানো চলচ্চিত্রের সাত থেকে আটটা গান গেয়েছিলাম।’