বইমেলা ঘিরে শেষ সময়ে সাজসজ্জায় ব্যস্ত শ্রমিকরা

হাতুড়ি-পেরেকের ছন্দে নিরলসভাবে কাজ করছেন হাফিজ মোল্লা নামের পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। তার পাশেই হৃদয় পাল নামের আরেক তরুণ রং তুলির আঁচড়ে নির্জীব কাঠকে প্রাণবন্ত করে ফুটিয়ে তুলছেন। ফলে স্টল তৈরিতে দেখা যাচ্ছে বৈচিত্র্যতা। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাদের মতো অনেক শ্রমিকের কাজের গতিই বলে দিচ্ছে দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের অমর একুশে বইমেলা। একদিন পরই শুরু হবে অমর একুশে বইমেলা। তাই শেষ সময়ের কাজ সপ্তাহে নিরলস পরিশ্রম করতে দেখা গেছে শ্রমিকদের।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ স্টল তৈরির কাজ এখনও শেষ হয়নি। তাই বইমেলা প্রাঙ্গণ সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকেরা। কেউ মাপ মতো কাঠ কাটছেন, কেউ মাথায় তুলে নিয়ে যাচ্ছেন সেগুলো। কেউ আবার দিচ্ছেন তুলির আঁচর। শুধু দিনেই নয়, রাতেও কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

কাজের ফাঁকে হাফিজ মোল্লার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। সময় প্রকাশনীর স্টল নির্মাণ করছেন তিনিসহ আরো কয়েকজন। স্টল নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে, আগামীকালের মধ্যে বাকী কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি। বইমেলার কাজ তার কাছে আনন্দদায়ক এ কথা জানাতে ভোলেননি তিনি। প্রাণের বই মেলাকে প্রাণবন্ত করতে তার চেষ্টার কমতি নেই। বই মেলার স্টল নির্মাণ করেছেন আরো কয়েকবার। তবে এ বছর বাড়তি তৃপ্তি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন৷

তাদের কিছুদূর পরই অয়ন প্রকাশনের কাজ করছে মোবারক হোসেন নামের এক শ্রমিক। স্টলটি নির্মাণে কাজ করছেন তারা ৪ জন শ্রমিক। তারও একই সুর। বললেন, অনেক বড় মেলা। এটা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হোক সেটাই চাই। মজুরির বিনিময়ে কাজ করলেও এটা তো আমাদের প্রাণের মেলা।

একাধিক নির্মাণ শ্রমিকরা বলেন, ডিজাইন-কাটিংয়ের কাজ করতাছি, বক্স বানাইতেছি। গ্যালারির কাজ আছে। গত বছরের তুলনায় এ বছরে কাজ অনেক বেশি। আমরাও সুবিধা পাইতেছি। ৫০-৬০ জন একসাথে কাজ করি।

মিজান প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী মিজানুর রহমান পাটোয়ারি স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে কাজ পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, আমার স্টলের কাজ প্রায় শেষের দিকে। মেলার প্রথম দিন থেকেই আমার স্টলে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রায় তিন হাজার বই থাকবে। এ বছর মেলায় অধিক সংখ্যক বই বিক্রির আশা করছেন তিনি। মেট্রোরেল চালুর কারণে বইপ্রেমীদের ভিড় বাড়বে বলে প্রত্যাশা তার। তবে রাত ৯টায় এই রুটের মেট্রো সার্ভিস চালু রাখার ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান তিনি।

বাংলা একাডেমি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট এলাকাজুড়ে বইমেলার প্রাঙ্গণ। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি ইউনিট, অর্থাৎ মোট ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৯৩৭টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর ১ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টায় বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেন।