ঠাণ্ডা ভাত খেতে না চাওয়ায় প্রতিবন্ধী মেয়েকে সৎমায়ের নির্যাতন

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রতিবন্ধী মেয়েকে (২০) নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক সৎমায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভু্ক্তভোগী রাত্রি আক্তার উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের নাছির উদ্দিনের তৃতীয় মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, শ্রীপুর ইউনিয়নের গান্দাছি পূর্বপাড়ার বাসিন্দা নাছির উদ্দিন ৩০ বছর আগে একই এলাকার বিলকিস আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে চার মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান আছে। এদের মধ্যে রাত্রি জন্মগতভাবে মানসিক প্রতিবন্ধী। পরে পারিবারিক কলহে নাসির-বিলকিসের সংসার ভেঙে যায়।

এরপর নাছির উদ্দিন কালিকাপুর ইউনিয়নের জামপুড়া গ্রামের বাসিন্দা সালমা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তাদের সংসার শুরু হতেই প্রতিবন্ধী রাত্রির ওপর নেমে আসে নির্যাতন। এ নিয়ে সালমাকে বিভিন্ন সময় সতর্ক করে প্রতিবেশীরা। নাছির উদ্দিনকেও জানানো হয়। কিন্তু তিনি বিষয়টি আমলে নেননি।

অভিযোগ উঠেছে, গত সপ্তাহে প্রতিবন্ধী রাত্রিকে ঘরে একা পেয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা করে সালমা। পরে রাত্রির  চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে।

রাত্রির মামা মো. হানিফ বলেন, ‘আমার প্রতিবন্ধী ভাগনিকে বিভিন্ন সময় তার সৎমা সালমা মারধর করে। ঘটনার দিন রাত্রির প্রাণনাশের চেষ্টা করেন তিনি। প্রতিবাদ করায় নাছির ও সালমা আমার ওপরও হামলা করে।’ তবে এ বিষয়ে জানতে রাত্রির বাবা নাছির উদ্দিন ও তার সৎমা সালমা আক্তারের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তারা সাড়া দেননি।

চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম খাঁন বলেন, ‘প্রতিবন্ধীকে নির্যাতনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যতটুকু জেনেছি, সৎমা ঠাণ্ডা ভাত খেতে দিলে মেয়েটি খাবে না বলে অভিমান করে। পরে বাবা-মা তাকে ঘরে নিতে চায়। এ সময় টানা-হেঁচড়ায় মেয়েটির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে যায়। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’