টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নামলেন না সাকিব আল হাসান। এরপর বল হাতেও বাংলাদেশের এই তারকা বাঁহাতি অলরাউন্ডার থাকলেন খরুচে। এমন হতাশার মাঝেও তাকে নিয়ে আশার খবর শোনালেন নুরুল হাসান সোহান। রংপুর রাইডার্সের অধিনায়কের মতে, বিপিএলের শেষদিকে সাকিবকে পুরো ছন্দে পাওয়া যাবে। সঙ্গে তিনি জানালেন, সাকিবের মাঠে থাকাটাই তাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
মঙ্গলবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ৮ উইকেটে জিতেছে রংপুর। টস জিতে তাদের ৫ উইকেটে ১৬৫ রানের জবাবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স পুরো ওভার খেলে করে ৬ উইকেটে ১৫৭ রান। দল জিতলেও ৩৬ বছর বয়সী সাকিব ছিলেন সাদামাটা। চোখের রেটিনার সমস্যায় ভুগতে থাকা এই ক্রিকেটার ব্যাট করেননি। পরে বল হাতে ৪ ওভারে ৪১ রানে নেন ১ উইকেট। তার করা ম্যাচের শেষ ওভার থেকেই ২০ রান তোলে কুমিল্লা। তারপরও এক ওভারে ২৯ রানের কঠিন সমীকরণ অধরাই থেকে যায় বিপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
শতভাগ ফিট না থেকেও এবারের আসরে খেলে যাচ্ছেন সাকিব। তার ভূমিকা মূলত বোলিং অলরাউন্ডারের। তবুও তার মাঠে থাকাকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে সোহানের, 'সাকিব ভাই বিশ্বের একজন সেরা অলরাউন্ডার। উনি এখনও অলরাউন্ডার। চোখের সমস্যার কারণে হয়তো এখন ব্যাট করতে তার সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু তার মাঠে থাকাটাই আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।'
শেষ ওভারের প্রথম ডেলিভারিটি ওয়াইড দেন সাকিব। এরপর ডাবল নিতে গিয়ে রানআউটে কাটা পড়েন তাওহিদ হৃদয়। দ্বিতীয় বলে আমের জামালকে বাবরের আজমের ক্যাচে পরিণত করেন সাকিব। পরের চারটি বলে অবশ্য ঝড় বয়ে যায় তার ওপর দিয়ে। জাকের আলি অনিক যথাক্রমে ৬, ৬, ২ ও ৪ রান আনেন। ওই সময় সাকিবের বোলিংয়ে যাওয়া নিয়ে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার সোহানের ব্যাখ্যা, 'এটা আগে থেকে পরিকল্পনা করা ছিল যে শেষ ওভারে আসবেন (রান-বলের ব্যবধান বেশি হলে)। এটা আসলে ওই সময়ের ওপর নির্ভর করছিল। ওদের ডান-বাম কম্বিনেশন ছিল। ওটার ওপর নির্ভর করে (সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে) সাকিব-মেহেদি দুজনের একজন শেষ ওভার করবেন।'
সাকিব কবে নাগাদ ব্যাটিংয়ে নামতে পারবেন জানতে চাইলে সোহানের জবাব, 'উনি চেষ্টা করছেন। বিশ্রামের দিনেও নিজে নিজে অনুশীলন করছেন। চোখে যে সমস্যা আছে ওটা আস্তে আস্তে উন্নতি হচ্ছে। তো আমরা আশা করি, টুর্নামেন্টের শেষদিকে তাকে পুরোদমে দেখতে পারব।'
পাঁচ ম্যাচে তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে বিপিএলের পয়েন্ট তালিকার তিনে আছে রংপুর। এক ম্যাচ কম খেলে দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট পাওয়া কুমিল্লার অবস্থান চারে।