নীতিমালা ছাড়া মৃত্যুদন্ড নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের

নীতিমালা ছাড়া ফৌজদারি আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দেওয়া সংবিধানের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালা কেন প্রণয়ন করা হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

এ-সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ বিভাগের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছে হাইকোর্ট।

মৃত্যুদন্ড ও তা কার্যকরে আইনি বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর একটি রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। এতে ফৌজদারি অপরাধে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি-সংক্রান্ত দন্ডবিধির ৫৩ ধারা এবং মৃত্যুদন্ড কার্যকরের ব্যাখ্যা-সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮(১) ধারাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়।

আবেদনে রিটকারী আইনজীবী বলেন, বাংলাদেশে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের এই বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেননা, সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে কারও সঙ্গে নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘ ঘোষিত ১৯৪৮ সালের মানবাধিকার সনদ, ১৯৬৬ সালের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি, ১৯৮৪ সালের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনে প্রাণদন্ডের মতো সাজাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এসব আন্তর্জাতিক দলিলে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিধান পালন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু কোনো নীতিমালা ছাড়াই বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ডের রায় হয়।