আলোচিত তোশাখানা দুর্নীতি মামলার আরেক অভিযোগে ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৪ বছর কারাবাসের সাজা এবং ৭৮ কোটি ৭০ লাখ রুপি জরিমানা করেছে পাকিস্তানের একটি আদালত। বুধবার এই রায় ঘোষণা করে ইসলামাবাদের জবাবদিহিতা আদালত (অ্যাকাউন্টিবিলিটি কোর্ট)।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, গত মাসে অর্থাৎ ডিসেম্বরে ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির বিরুদ্ধে তোশাখানা দুর্নীতির নতুন অভিযোগ আনে পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরো (ন্যাব)। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় উপহার হিসেবে সৌদি যুবরাজের দেওয়া অলঙ্কার কমদামে হাতিয়ে নিয়েছিলেন ইমরান খান, এতে সহায়তা করেছিলেন তার স্ত্রী বুশরা। এ মাসের শুরুতেই আদালত তাদের দুজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগে অভিযুক্ত করে। এরপর আজকে রায় ঘোষণা করা হলো।
এ নিয়ে পর পর দুইদিন ইমরানের বিরুদ্ধে বড় দু’টি রায় এলো। এর আগে, গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন, তথা সাইফার মামলায় ইমরান খান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন পাকিস্তানের আদালত।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় তোশাখানা পরিচালনা করে দেশটির মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অন্যান্য দেশের সরকার ও রাজ্যের প্রধান, সংসদ সদস্য, আমলা, কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া মূল্যবান উপহার তোশাখানায় সংরক্ষণ করা হয়। নিয়ম অনুসারে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাওয়া উপহার বা এ জাতীয় অন্যান্য উপকরণগুলোর বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক।
অভিযোগ রয়েছে, পিটিআই সরকারে থাকাকালে ইমরান খানের পাওয়া উপহারের যথাযথ বিবরণ প্রকাশ করেনি। এমনকি এ বিষয়ে পাকিস্তান তথ্য কমিশনের (পিআইসি) নির্দেশও উপেক্ষা করেছিল তারা। পরে, ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইসিপি’তে জমা দেওয়া লিখিত জবাবে ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার পাওয়া কমপক্ষে চারটি উপহার বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন।
২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তোশাখানা মামলায় ইমরানকে প্রথম সাজা দেয় আদালত, ওই সময় ইমরানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই রায় ঘোষণার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)।
পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে ইমরানের বিরুদ্ধে এসব রায় দিচ্ছে পাকিস্তানের আদালত। অন্যদিকে ব্যাপক চাপের মধ্যেও নির্বাচনী প্রতীক ছাড়াই এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। কিন্তু প্রচারণা চালাতে গিয়ে ব্যাপক বাধা এবং ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছে পিটিআই নেতা-কর্মীরা।
ইমরানের বিরুদ্ধে দুই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় পিটিআই বিবৃতিতে বলেছে,’ এসব রায় আসলে গত দুই দিনে পাকিস্তানের সমস্ত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো , ধ্বংস করে দেওয়ার শামিল।’