তোশাখানা তছরুপে পাকিস্তানের আরও যে ক্ষমতাবানদের নাম

পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় তোশাখানায় জমা বিদেশি রাষ্ট্রের উপহার আত্মসাতের অভিযোগে ১৪ বছরের  কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি। সৌদি যুবরাজের দেওয়া অলঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত তারা। এছাড়া ইমরান স্বীকার করেছেন তিনি তোশাখানা থেকে কয়েকটি ঘড়িও নিয়েছেন। ইমরানের স্ত্রী বুশরা ২০১৯ সালের অক্টোবরে ১ কোটি রুপি মূল্যের একটি গলার হার, ২৪ লাখ রুপির ব্রেসলেট, ২৮ লাখ রুপির আংটি ও সাড়ে ১৮ লাখ রুপির এক জোড়া কানের দুল উপহার নেন। এসব উপহারের জন্য সর্বসাকল্যে তিনি পরিশোধ করেন ৯০ লাখ রুপি।

রাষ্ট্রীয় তথ্য বলছে ইমরানের আগে পরের প্রায় সব প্রধানমন্ত্রীই তোশাখানা থেকে নামমাত্র মূল্যে অতিমূল্যবান উপহার সামগ্রী বাগিয়ে নিয়েছেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের রাষ্ট্রীয় উপহার হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০২ সাল থেকে রাষ্ট্রের তোশাখানার উপহার নামমাত্র মূল্যে অথবা অসাধু উপায়ে হাতিয়ে নিয়েছেন ইমরানের আগের পরের প্রধানমন্ত্রীরাও। এদের মধ্যে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি, সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রয়াত সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজ, ইউসুফ রাজা গিলানি, শহিদ খাকান আব্বাসি, রাজা পারভেজ আশরাফ ও জাফরউল্লাহ খান জামালি। আরও আছেন সিনেটের চেয়ারম্যান সাদিক সঞ্জরানি, অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি।

প্রকাশিত সরকারি নথি অনুযায়ী, ক্ষমতায় থাকাকালে যেসব কর্তাব্যক্তি তোশাখানা থেকে বিদেশি উপহারসামগ্রী নিয়েছেন, তাদের মধ্যে দু-একজন ছাড়া সবাই এগুলো নিয়েছেন একেবারে নামমাত্র মূল্যে। এসব উপহার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে অতি মূল্যবান হাতঘড়ি থেকে শুরু করে বুলেটপ্রুফ গাড়িও।

একেবারে এক রুপিও পরিশোধ না করে শত শত বিদেশি উপহারসামগ্রী বাগিয়ে নিয়েছিলেন প্রয়াত সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজ।  

পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল পিএমএল-এন-এর সর্বোচ্চ নেতা নওয়াজ শরিফ ২০০৮ সালের ২০ এপ্রিল ৪২ দশমিক ৫ লাখ রুপির একটি মার্সিডিজ বেনজ গাড়ি উপহার নেন। এটি নিজ হেফাজতে রাখার বিনিময়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী তোশাখানায় পরিশোধ করেন ৬ দশমিক ৩৬ লাখ রুপি। গাড়ি ছাড়াও আরও ৬৫ টি উপহার তোশাখানা থেকে নিয়েছেন নওয়াজ ও তার স্ত্রী কুলসুম। এসবের বিনিময়ে একেবারেই কম মূল্য পরিশোধ করেছিলেন তারা।

প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির স্ত্রী সামিনা আলভি ২০১৯ সালের অক্টোবরে ৮ লাখ ৬৫ হাজার রুপি পরিশোধ করে ১১ লাখ ৯০ হাজার রুপির একটি গলার হার ও অন্যান্য অলংকার উপহার নেন। প্রেসিডেন্ট নিজে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫ লাখ রুপির একটি রোলেক্স হাতঘড়ি উপহার নিয়ে ১২ লাখ রুপি পরিশোধ করেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খাকান আব্বাসির স্ত্রী মিনা শহিদ তোশাখানা থেকে প্রায় ৯৯ মিলিয়ন রুপির উপহার নিজের মালিকানায় নিয়েছিলেন, মাত্র ১৯ মিলিয়ন রুপির বিনিময়ে।

রাষ্ট্রীয় তোশাখানা থেকে নিজের মালিকানায় উপহার নেওয়ার বিষয়টি পাকিস্তানি ক্ষমতাবানরা যে কোন দৃষ্টিতে দেখেন তা বোঝা যায় ডনের এক সাক্ষাতকারে। এই সাক্ষাতকারে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খাকান আব্বাসি বলেন, ' ওসব উপহার বিদেশিরা আমাদের পদকে দেয়নি, আমাদের দিয়েছে। এগুলো নেওয়া কোনো অপরাধ নয়।'  উপহারের প্রকৃত দাম নির্ধারণ করে সেই দামের ২০ শতাংশ চুকিয়ে সেসব নিয়েছেন বলে দাবি করেন খাকান আব্বাসি, যদিও দাম নির্ধারণ নিয়েই রয়েছে বিতর্ক। 

খাকান আব্বাসির মন্তব্যের পর ডন প্রশ্ন করে, তাহলে ইমরান খানকে কেন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে? জবাবে খাকান আব্বাসি বলেন, ' ইমরান উপহার নিয়ে বিক্রি করার আগে ২০ শতাংশ দাম পরিশোধ করেননি বলেই শাস্তি পেয়েছেন।'