গোপনে বিশাল কারাগার বানাচ্ছে মিয়ানমার

গোপনে বৃহৎ আকারের কারাগার তৈরির কর্মসূচি হাতে নিয়েছে মিয়ানমার জান্তা সরকার। নতুন এক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ান।

এতে করে জনমনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে যে দেশটিতে হাজার হাজার গণতন্ত্রপন্থী ও সরকার বিক্ষোভকারীদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত খবর তুলে ধরেছে গার্ডিয়ান।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সুচি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে ২০২০ সালের তোলা ছবি এবং গত বছরের তোলা কিছু ছবি স্যাটেলাইট বিশ্লেষণের মাধ্যমে গার্ডিয়ান জানায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে চিহ্নিত ৫৯টি কারাগারের মধ্যে ২৭টিতেই বড় আকারের সম্প্রসারণ করা হয়েছে বা নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাগারগুলোতে এসব নতুন ভবন নির্মাণ ক্ষমতাসীন সামরিক বাহিনী অঘোষিতভাবে করছে যার ফলে দেশজুড়ে ব্যপক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। বেশিরভাগের ধারণা ব্যপক কারাগার নির্মাণ দেশটির গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের বিরুদ্ধে চলমান ক্র্যাকডাউনের একটি ক্রমবর্ধমান অংশ।

রাজনৈতিক বন্দীদের সহায়তা সমিতির হিসেবে মিয়ানমারে ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে ২৫ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি "রাজনৈতিক বন্দিকে" গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজার এখনও আটক রয়েছে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মায়ানমার উইটনেস দ্বারা এক বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে যে, ২৫টি কারাগারের মধ্যে নতুন বন্দীদের থাকার জন্য আরও ৩৩টি নতুন ভবন তৈরি করা হয়েছে।

গার্ডিয়ান জানায়, নেপিদোতে অবস্থিত কারাগারের ভেতরে ও বাইরে গত তিন বছরে বড় বড় নতুন ভবন তৈরি হয়েছে।

গার্ডিয়ান জানায়, সমীক্ষায় প্রধানত গ্রামীণ এলাকায় এবং কৃষি প্রকল্পের মাঝে ৫৩টি শ্রম শিবিরের বিস্তার চিহ্নিত করা হয়েছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী কারা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, সাংবাদিক ও কর্মীদের গণগ্রেপ্তারের সাথে মিলে গেছে বলছে সংবাদমাধ্যমটি।

ওপেন সোর্স ইমেজের বরাতে মায়ানমার উইটনেস বলছে যে, ২০২২ সালের মার্চ মাসে পর্যন্তও মিয়ানমারে ফাঁসির মঞ্চগুলো ছাদবিহীন থাকলেও পরবর্তীতে এগুলোকে পরিবর্তন করে নতুন ছাদ লাগানো হচ্ছে।

মানবাধিকার কর্মীদের ধারণা, নজরদারি থেকে ফাঁসির মঞ্চকে লুকাতেই ছাদ তুলে দিচ্ছে সামরিক সরকার।

গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণটি মোট ১০০টিরও বেশি কারাগার ও নির্মাণাধিন শ্রম শিবিরের ওপর করা হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে মিয়ানমারের কারাগার সম্প্রসারণ এর চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক আকারে হচ্ছে।