কখনো নিজেকে শিল্পপতি, কখনো গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি মালিক, কখনো শিক্ষক হিসাবে পরিচয় দিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে সখ্যতা গড়ে তোলেন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের সঙ্গে। সখ্যতার পর মেয়েদের সর্বনাশ করাই তার লক্ষ্য। নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে কয়েক মেয়েকে ধর্ষণ করেছেন শাহ আলম নামের এক যুবক।
বুধবার (৩১ জানুয়ারি) এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে পুলিশ তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে শাহ আলম ফরিদপুর পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
অভিযোগ ও থানা সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম (৩৭)। ছোটবেলা থেকে শাহ আলমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল এলাকায়। ছাত্র জীবনে একটি স্কুলে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে চাকরি করার সময় স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সেই ছাত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিষয়টি জানাজানি হলে সেই ছাত্রীকে বিয়ে করতে বাধ্য হন শাহ আলম। ঢাকায় যাওয়ার পর আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন শাহ আলম। ঢাকায় সুবাহ নামের এক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক হলে বিয়ে ভেঙে যায় তার। এরপর বিয়ে করেন খুলনার জেবা নামের এক মেয়েকে।
সম্প্রতি ফেসবুকে ফরিদপুরের কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামের এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে পরিচয় হয়। শাহ আলম নিজেকে শিল্পপতি পরিচয় দিয়ে সেই কলেজছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সম্পর্কের একপর্যায়ে ঢাকা থেকে সেই ছাত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। পরে প্রাইভেট কারের ভেতরই তাকে ধর্ষণ করে ও তা ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় শাহ আলমের বিরুদ্ধে গত ১৭ জানুয়ারি ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করা হয়। এরপর কোতয়ালী থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে।
কোতয়ালী থানার এসআই মিজানুর রহমান জানান, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলায় শাহ আলমকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ডে আবেদন জানিয়ে তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।