পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ব্যাপক হারে কমেছে খেজুর গাছের সংখ্যা। গত এক দশকে উপজেলায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার খেজুর গাছ হারিয়ে গেছে। অল্প যে কয়টি খেজুর গাছ রাস্তার পাশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, গাছির অভাবে সেগুলোতেও রস সংগ্রহ করা হচ্ছে না। এতে হারিয়ে যেতে বসেছে এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও পাটালি গুড়। স্থানীয় ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইটভাটার জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য বেপরোয়া খেজুর গাছ নিধন, গ্রামের রাস্তাগুলো সংস্কার ও নতুন করে খেজুর গাছ রোপণে মানুষের আগ্রহের অভাবের কারণে খেজুর গাছ কমে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অফিসের তথ্যমতে, দশ বছর আগেও উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার খেজুর গাছ ছিল। এসব খেজুর গাছের দুই তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে উপজেলায় আট থেকে নয় হাজার খেজুর গাছ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, এক দশক আগেও উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজারে চোখে পড়ত শীতের সকালে সারি সারি খেজুরের রসে ভরা কলস। গাছিদের দেখা মিলত গ্রামের মেঠোপথে। ধারালো দা দিয়ে তাদের নিপুণ হাতে গাছ চাঁচাছোলা ও খিল বসানোর দৃশ্য চোখ জুড়াত। উপজেলার সদর, আমড়াগাছিয়া, সাপলেজা, তুষখালী, বেতমোর, মিরুখালী ও বড় মাছুয়া ইউনিয়নে সুস্বাদু এই খেজুরের রস আগুনে জ¦াল দিয়ে বানানো হতো পাটালি ও নালি গুড়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন এসে খেজুর গাছ বর্গা নিয়ে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করত। এখন আর এ সবের দেখা মিলে না। সে সময় খেজুরের রস বিক্রি হতো প্রতি কেজি ৮ থেকে ১০ টাকা। বর্তমানে তা ৫০ থেকে ৮০ টাকা। অনেক জায়গায় ১০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। তা ছাড়া রসের কলস ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের গাছি ফারুক হোসেন (৪৫) জানান, আগে তাদের দারুণ কদর ছিল, মৌসুম শুরুর আগেই কথাবার্তা পাকা হতো কার কয়টি খেজুর গাছ কাটতে হবে। কিন্তু এখন আর কেউ ডাকে না। আগের মতো খেজুর গাছও নাই। তার নিজের কিছু গাছ আছে, চার বছর ধরে সেগুলো কেটে রস সংগ্রহ করেই বাপ দাদার এই পেশা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
আরেক গাছি জামাল ফরাজি (৫২) বলেন, ‘রাস্তাগুলো সংস্কার করায় এবং ইট পোড়ানোর কাজে খেজুর গাছ ব্যবহার করায় গাছগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন করে কেউ খেজুর গাছ লাগাচ্ছেও না।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মানুষ খেজুর গাছ যেভাবে নিধন করছে, সেভাবে রোপণ করে নাই। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে খেজুর গাছ রোপণ না করলে কালের বিবর্তনে শহরের মতো গ্রামেও খেজুরের রস হারিয়ে যাবে। সরকারিভাবে উপজেলায় প্রতি বছর ৫০০ তালগাছ ও ২ হাজার খেজুর গাছের বীজ রোপণ করা হয়।’