যে গোলের পর পার্টিতে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন রোমারিও

বার্সেলোনার ইতিহাসে সেরা ফুটবলার কে? এমন প্রশ্ন উঠলে বর্তমান প্রজন্ম হয়তো লিওনেল মেসির নামটাই বলবে। তারও কিছু আগের প্রজন্ম বলবে দিয়াগো ম্যারাডোনার নাম। নিঃসন্দেহে তারা কাতালান ক্লাবটির মহাতারকা। তবে স্প্যানিশ এই ক্লাবটির হয়ে আরও অনেক রথী-মহারথী ফুটবল বিশ্বে আলো ছড়িয়েছেন। তাদেরই একজন ব্রাজিলিয়ান লিজেন্ড ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক রোমারিও ডি ফারিয়া সুজা।

গত ২৯ জানুয়ারি নিজের ৫৮তম জন্মদিন উদযাপন করেছেন তিনি। যেখানে ‘মুটিয়ে যাওয়া নেইমার’এর উপস্থিতিও আকর্ষিত করেছে সবাইকে। ব্রাজিলের এই আল হিলাল তারকা নেইমার যেমন উশৃঙ্খল জীবন-যাপন করেন, ফুটবলকে নেন না সিরিয়াসলি। সারাক্ষণই খেলার বাইরের জগৎ নিয়ে ডুবে থাকা। তেমনি রোমারিও ছিলেন তার সময়ের এমন শৃঙ্খলাহীন ফুটবলার।

রোমারিওকে নিয়ে একটি গল্প প্রচলিত আছে। সেটা তার বার্সেলোনা ক্যারিয়ারের। বার্সার তখন কোচ ছিলেন ইয়োহান ক্রুইফ। একদিন ক্রুইফের কাছে গিয়ে রোমারিও দুইদিনের ছুটি চান। কারণ ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওতে একটি পার্টিতে যোগ দিতে চান তিনি। কোচ তখন মজার ছলেই রোমারিওকে বলেছিলেন, ‘যদি তুমি পরের ম্যাচে দুই গোল করতে পার তাহলে আমি তোমাকে ছুটি দেব।’

পরের ম্যাচ শুরুর ২০ মিনিটে জোড়া গোল করে বসেন রোমারিও। দুই গোল করেই তিনি টাচলাইনে চলে যান। সেখানে যেতেই কোচ ক্রুইফ তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কি ব্যাপার? তুমি মাঠ ছেড়ে এসে পড়লে কেন?’

জবাবে রোমারিও বলেন, ‘হাফ টাইমের পর আমার ফ্লাইট রয়েছে, তাই আমাকে যেতে হবে। আর আপনি কথা দিয়েছিলেন জোড়া গোল করলে আমাকে দুই দিন ছুটি দিবেন।’ ক্রুইফ শুধু হতভম্ব হয়ে তাকিয়েই রইলেন, কিছু আর বললেন না। কারণ তিনি যে কথা দিয়েছিলেন!

রোমারিওর ক্যারিয়ারটাও এমনই ছিল। পার্টি, ফুটবল এবং অ্যালকোহল এই নিয়েই ছিল তার জীবন! প্রচণ্ড এক রোখা হওয়ায় কোচদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে বিবাদে জড়িয়ে দল থেকে বাদ পড়েছেন। আবার দল বিপদে পড়লে কোচেরা তাকে ডাকতে বাধ্যও হয়েছেন! ফুটবলটাকে কখনোই সেভাবে সিরিয়াসলি নেননি।

এত কিছুর পরও ক্যারিয়ারজুড়ে ৭৭৫ টি অফিসিয়াল গোল এবং অফিশিয়াল ও আনঅফিশিয়াল মিলিয়ে আছে এক হাজারের অধিক গোল। ভীষণ আত্মবিশ্বাসীও ছিলেন, এমন অনেক নজির রয়েছে যে ম্যাচের আগে বলে দিতেন সেই ম্যাচটায় কতটি গোল করবেন তিনি!

খেলোয়াড়ি জীবনে সারাক্ষণ পার্টি নিয়ে মেতে থাকা রোমারিও এখন ব্রাজিলের ফেডারেল সিনেটের সদস্য।