রাজশাহী মেডিকেলে ক্যান্সার রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন নতুন ক্যান্সার রোগীর চাপ বাড়ছে। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রোগী আসছেন চিকিৎসা নিতে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এখানকার ক্যান্সার চিকিৎসার উন্নতি করা সম্ভব হয়নি। তবে, এখানে যেসব যন্ত্রপাতি রয়েছে সেগুলো সচল রেখে সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রামেক হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের তথ্য মতে, এই হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগে প্রতিদিনই রোগীর চাপ থাকছে। গত ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে এখানে ১৫২৯ জন নতুন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর বাইরে পুরাতন রোগীরাও নিয়মিত চিকিৎসা নিতে আসেন। গড়ে প্রতিদিন এখানে ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী রেডিওথেরাপির জন্য আসেন। ক্যান্সার রোগের গুরুত্বপূর্ণ এই চিকিৎসা নিতে এসেই হোঁচট খেতে হয় রোগীকে। রামেক হাসপাতালে প্রতিদিন রেডিওথেরাপি দেয়ার সক্ষমতা রয়েছে ৬০ জনের। অথচ প্রতিদিন রোগী সামলাতে হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে। এতে কষ্টে থাকা মানুষগুলোকে পড়তে হচ্ছে অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে।

রামেক হাসপাতালে বর্তমানে একটি করে কোবাল্ট মেশিন, ব্রেকিথেরাপি মেশিন ও সিটি সিমুলেটর মেশিন রয়েছে। এই মেশিন দিয়েই চলছে রেডিওথেরাপির কাজ। আবার দিন যত যাচ্ছে এসব মেশিন সক্ষমতা হারাচ্ছে। 

রামেক হাসপাতালের ক্যন্সার বিভাগের প্রধান ডা. অসীম কুমার ঘোষ বলেন, শিশু থেকে বয়স্ক সবারই এখন ক্যান্সার ধরা পড়ছে। বিশেষ করে রাজশাহীতে বেশি শনাক্ত হচ্ছে মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যান্সার। যেভাবে শনাক্ত হচ্ছে, রোগী আসছে আমাদের চিকিৎসার উপকরণ সেভাবে নেই। প্রতিদিনই আমাদের এখানে গড়ে ৬০ জনকে রেডিও থেরাপি দিতে পারি। চাহিদা থাকে তারও দ্বিগুণ বা তিনগুন। এক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে আমাদের থেরাপি দিতে হয়। রোগীদের অপেক্ষা করতে হয়। আমাদের এখন খুব জরুরি হলো একটি বড় কোবাল্ট অথবা একটি লাইনার মেশিন। রামেক হাসপাতালে লাইনার অ্যাকসেলারেটর মেশিন নেই। এটি খুবই প্রয়োজন। মন্ত্রণালয়ে এসবের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের বার বার বলা হচ্ছে বিশেষায়িত নতুন যে ক্যান্সার হাসপাতাল হবে সেখানে এগুলো দেওয়া হবে। 

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহাম্মদ বলেন, আমাদের যে পরিমান ক্যাপাবিলিটি তার থেকে পাঁচগুণ রোগী থাকে। যে কারণে অপেক্ষা করতেই হয়।

তিনি বলেন, রাজশাহীতে একটি আধুনিক ক্যান্সার হাসপাতালের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ১৭ তলার ক্যন্সার কিডনি ও হার্ট সেন্টার হচ্ছে। সেটার অবকাঠামোগত কাজের তিন ভাগের দুই ভাগই হয়ে গেছে। এটা সম্পন্ন হলে যন্ত্রপাতি আসবে। তখন আরও অনেক ক্যাপাবিলিটি বাড়বে আমাদের। তখন তো আর কোনো সমস্যায় হবে না। এখনো কোনো সমস্যা নাই দাবি করে তিনি বলেন, ক্যান্সার চিকিৎসার যেসব যন্ত্রপাতি এখানে আছে সবই সচল রয়েছে। কিভাবে সচল রাখি আমরা সেটা সবার আন্তরিকতা আছে বলেই সম্ভব হচ্ছে। যেকোনো মেশিনে সমস্য দেখা দিলেই আমরা সাথে সাথে এটির ব্যবস্থ নেয়, সেই সাথে স্পেশালি প্রতিটি মেশিনের জন্য লোক আছে, যারা এগুলো সম্পর্কে বোঝে। এরকম লোক আছে।