সংসদের কফিনে শেষ পেরেক মেরে দিয়েছে সরকার: মান্না

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ অকার্যকর। কারণ এখানে কোনো বিরোধী দল নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সংসদের কফিনে পেরেক মেরে দিয়েছেন। জনগণের গণতন্ত্রের সব কিছু নস্যাৎ করে দিয়েছেন।’

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের উদ্যোগে এক অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস,আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মান্না বলেন, সংসদে থাকবে সরকারি দল, বিরোধী দল। কিন্তু দ্বাদশ সংসদে বিরোধী দল নেই। বিরোধী দল একজনকে বানিয়েছে  সেই দলের নেতা বলেছেন, এই সংসদ কোনো কাজ করতে পারবে আমার তা মনে হয় না। এটাই হলো সত্যি। এই সংসদের কফিনে প্যারেক মেরে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। জনগনের গণতন্ত্রের সমস্ত কিছু নস্মাৎ করে দিয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুলসহ অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে শুনেছি সরকার নাকি তাদের ছেড়ে দেবে। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার জামিনের শুনানি হলেও মির্জা ফখরুলের জামিন হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘২৮ অক্টোবরের দিন প্রধান বিচারপতির বাসভবনের গেইটে মির্জা ফখরুলের কোনো ছবি আছে? আমির খসরু মাহমুদের কোনো ছবি আছে? সেখানে তো বিএনপির কোনো লোক যায়নি। বিএনপির লোক মিটিং করেছে সেই ফকিরাপুলে আর বিচারপতির বাসভবন হলো কাকরাইল মোড়ে। জাতিসংঘ বিবৃতি দিয়েছে, ২৮ অক্টোবরের এই সন্ত্রাস সরকারি দল করেছে। সরকার তখন তাদের জিজ্ঞাসা করেছে আপনারা এটা কিভাবে জানলেন? তখন জাতিসংঘ বলেছে, আমরা স্যাটেলাইট ক্যামেরার মাধ্যমে সবকিছু দেখেছি।’

আওয়ামী লীগের নেতাদের সমালোচনা করে মান্না বলেন, ‘৭ তারিখের নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের নেতা থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যন্ত যারা আছে তাদের সম্মান বলতে কিছুই নেই। এরা সবাই প্রতারক। এ দলের লোকজন আগের মতো গরম গরম ভাব দেখাচ্ছে না। তাদের লোক এখন শান্তিতে নাই। তাদের মুখ শুকিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের দিন বড় খারাপ। আওয়ামী লীগ এখন নিজেরাই বুঝতে পারছে না তারা কয়দিন ক্ষমতায় থাকবে। এর কারণ হলো, তিন মাস পরে পেঁয়াজ, ডাল এগুলো কেনার যদি টাকা না থাকে, চাকরিজীবীদের বেতন দেওয়ার মতো টাকা যদি না থাকে তাহলে এ সরকার থাকবে কেমন করে? এ সরকার যতদিন পর্যন্ত যাবে না ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন চলতে থাকবে।’

বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মোফাজ্জল হোসেন হৃদয়ের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ, বিলকিস ইসলাম, তাঁতি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কৃষকদলের যুগ্ম সম্পাদক শাহ আব্দুল্লাহ আল বাকি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।