ছুটির দিনে স্বরূপে বাণিজ্য মেলা

পূর্ণতা পেয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গতকাল শুক্রবার মেলায় ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। মেলার ১৩তম দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড় দেখে খুশি ব্যবসায়ীরা।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপশহরের ৪ নম্বর সেক্টরে এবার বসেছে বাণিজ্য মেলার ২৮তম আসর। এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কে যানজটের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দর্শনার্থী-ক্রেতারা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, যানজট পুরোপুরি নিরসন করতে না পারলে জনসমাগম কম হবে। এতে লোকসানের মুখে পড়বেন তারা। এজন্য বাইপাস সড়ক যানজটমুক্ত রাখতে উদ্যোগ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে গতকাল দেখা গেছে, দুপুরের পর থেকে বিপুলসংখ্যক ক্রেতা-দর্শনার্থী মেলায় আসতে শুরু করে। দর্শনার্থীদের বেশি ভিড় ছিল শীতের কাপড়, গৃহস্থালির পণ্য ও ইলেকট্রনিক্স আইটেমগুলোর স্টলে। এবার মেলায় প্রথম শিশুপার্কের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পার্কে ফ্লিপার, ওয়াটারবোট, নাগরদোলা, নৌকা, ট্রেনসহ বিভিন্ন রাইড রয়েছে। রাইডের টিকিটের দাম ৫০-১০০ টাকার মধ্যে। তবে টিকিটের দাম তুলনামূলক বেশি অভিযোগ করেছেন দর্শনার্থীরা।

নেসলে প্যাভিলিয়নের ইনচার্জ সীমান্ত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতি বছরই বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করি। আমরা বাচ্চাদের নিউট্রিশন বিষয়ে শেখাতে আমাদের প্যাভিলিয়নে সাতটির মতো গেমসের আয়োজন করেছি। এ ছাড়া আমরা মেলায় বিভিন্ন ছাড়ে কম্বো রেখেছি।’

গৃহস্থালি পণ্যের ব্যবসায়ী আকাশ বলেন, ‘অবশেষে বাণিজ্য মেলা পূর্ণতা পেয়েছে। সকাল থেকেই দর্শনার্থী বেশি হওয়ায় আমাদের বিক্রি বেড়েছে।’

হাতিল ফার্নিচারের এক বিক্রয়কর্মী বলেন, ‘বাণিজ্য মেলায় আমাদের শুধু বিক্রয়ের উদ্দেশ্য থাকে না। আমরা পণ্যের প্রচার করতে মেলায় অংশগ্রহণ করি। আমরা ছুটির দিনের অপেক্ষায় ছিলাম এতদিন। অবশেষে জমে উঠেছে মেলা। সকাল থেকে টেবিল, চেয়ার, খাটসহ বেশ কয়েকটি ফার্নিচার বিক্রি করেছি।’

নরসিংদীর মাধবদী থেকে আসা দর্শনার্থী আক্তার মিয়া বলেন, ‘বাণিজ্য মেলায় আসতে গিয়ে এশিয়ান বাইপাস সড়কে যানজটে পড়ে ২০ মিনিটের রাস্তা ৩ ঘণ্টা লেগেছে। তারপরও মেলা জমে উঠেছে।’

ঢাকা থেকে মেলায় আসা সুমনা আক্তার বলেন, ‘গৃহস্থালির কিছু পণ্য কিনলাম। সব মিলিয়ে ভালো লেগেছে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) অতিরিক্ত সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক বিবেক সরকার বলেন, ‘ছুটির দিন হওয়ায় মেলা জমে উঠেছে পুরোপুরিভাবে। আমরা দর্শনার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, গত বছর মেলায় ৩৩১টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হলেও এবার দেওয়া হয়েছে ৩৩০টি। এর মধ্যে ছোট-বড় মিলিয়ে প্যাভিলিয়ন ১৮টি। এবারের মেলায় ভারত, পাকিস্তান, হংকং, তুরস্কসহ ১২টি দেশের ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করছেন।