জমে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের হাট। শতবর্ষ পুরনো এই হাটে সপ্তাহে দুদিন খেজুরের গুড় বিক্রি হয়। সোমবার ও শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে খেজুরের গুড় বেচাকেনা। প্রতি সপ্তাহে কোটি টাকার বেশি গুড় বিক্রি হয়। তবে এবার এ হাটে গুড়ের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। ফলে বাইরের জেলা থেকে এসে পর্যাপ্ত গুড় না পেয়ে ক্রেতারা হাট থেকে ফিরে যাচ্ছেন। খেজুর গাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়ায় গুড় উৎপাদনে টান পড়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের দুদিনের হাটে মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকার গুড় বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার ৭৬ লাখ এবং গত সোমবার ৫৭ লাখ টাকার গুড় বিক্রি হয়েছে।
হাটসূত্রে জানা গেছে, প্রতি কেজি খেজুরের গুড় ২০০-২৩০ টাকায় এবং প্রতি কেজি পাটালি বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকায়। প্রায় তিন মাসের এই হাট থেকে প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার গুড় বিক্রি হয়। এ হাটের গুড় ঢাকা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, পাবনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, মাগুরা, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, সিলেট, খুলনা, রংপুর, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার চুয়াডাঙ্গায় ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৬০টি খেজুরগাছ প্রস্তুত করা হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, ‘সরোজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের হাট জমে উঠেছে। তবে এবার হাটে গুড়ের সরবরাহ কম বলে জেনেছি। সরবরাহ বাড়াতে বেশি বেশি খেজুরগাছ রোপণ করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’