যুবককে আট টুকরা করে খুন, জড়িতদের বিষয়ে যা জানাল পুলিশ

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর চর থেকে মিলন হোসেন নামের এক যুবকের আট টুকরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টায় থেকে সকাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে নিহতের খন্ড খন্ড (আট টুকরা) দেহাংশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কুষ্টিয়া শহরে এক দশক ধরে কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা এবং হত্যাসহ নানা অপরাধে জড়িত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সজিব আহমেদ (২৫), জনি আহমেদ (২২) ও সজল আহমেদসহ (২৪) চার যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার সজিব জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।

কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি জানান, ‘মিলনের খুনের সঙ্গে তার পূর্ব পরিচিতিরা জড়িত সন্দেহে সাজিব, সজল ও জনিসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এদের মধ্যে টাকা-পয়সা ভাগাভাগি সংক্রান্ত দ্বন্দের জেরে এই হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে।’

তিনি বলেন, এমুহুর্তে এর বেশি বলা যাচ্ছে না। আটক যুবকদের জিজ্ঞাসাদ শেষে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা বিস্তারিত জানা যাবে।

নিহতের স্ত্রী মিমি খাতুন জানান, ‘গত ৩১ জানুয়ারি সকাল ১০টায় বাসা থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পায়। তখন থেকেই আমি ও আমার পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজি শুরু করি। তাকে না পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। ডায়েরী নং ২৩২৮।

মিমির অভিযোগ, ‘মিলনের ব্যবসায়িক পার্টনার সজল ওই দিন সকালে মোবাইল করে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকেই মিলনের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আমি আগে জানতাম না যে সজল একজন অস্ত্রধারী ও মাদক সম্পৃক্ত ব্যক্তি। জানলে আমি মিলনকে ওর সঙ্গে মিশতে দিতাম না। সজল খুব ভয়ঙ্কর লোক, ওর একটা গ্যাং আছে, ওরাই মিলনকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই, ফাঁসি চাই।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুষ্টিয়া মডেল থানার এক উপ-পুলিশ পরিদর্শক জানান, ‘আটক সজিব, জনি ও সজল ওরা তো কিশোর বয়স থেকেই অপরাধ জগতে ঢুকে পড়েছে। এরা হত্যা,  ব্ল্যাকমেইল (কৌশলে জিম্মি), মোবাইল নম্বর ক্লোন বা হ্যাক করে বিকাশের টাকা প্রতারণা, অস্ত্র, মাদকসহ নানা অপরাধে জতিড় একটি চক্র। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মিলন হোসেন নামে যে যুবক নিহত হয়েছে সেও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত।

কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শেখ মো. সোহেল রানা জানান, ‘নিহতের স্ত্রী মিমি খাতুনের করা সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে সজল ও সজিব নামে দুই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যাকান্ডে জড়িত বলে স্বীকার করেছে, তারা কিভাবে এবং কেনো এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে সে বিষয়েও একটি প্রাথমিক ধারণা দিয়েছে।

তিনি জানান, আটক যুবকদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই আজ শনিবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নিহতের খণ্ড খণ্ড মরদেহ পদ্মা নদীর চর থেকে উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।