চিতাবাঘের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে গত শুক্রবার উদ্ধার করা মৃত চিতাবাঘের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, বাঘটি পিটিয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসী। আবার কেউ বলছেন, হিংস্র কোনো প্রাণীর আক্রমণে মারা যাওয়া একটি গরুর শরীরে বিষ মিশিয়ে রাখার পর সেই গরুর মাংস খেয়ে মৃত্যু হয় চিতা বাঘটির। এমন পরিস্থিতিতে ঘটনাটি তদন্তের জন্য ঢাকা থেকে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের তিন সদস্যের একটি দল গতকাল শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

দলটির প্রধান ও বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক প্রত্যক্ষদর্শীসহ গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছেন। দলের অন্য দুই সদস্য হলেন একই ইউনিটের বন্যপ্রাণী স্কাউটস সঞ্জয় বন্ধ এবং জসিম শেখ।

চিতা বাঘটিকে কীভাবে মেরেছে, কারা মেরেছে, কেন মেরেছেÑ এসব বিষয় নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে দলটি। কথা বলেছে উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও।

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসিম মল্লিক বলেন, ‘আমরা দিনব্যাপী ঘটনাস্থল পরির্দশন করে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, প্রশাসন ও বিজিবির সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি। চিতা বাঘটির মৃত্যুর বিষয়ে আমরা নানান তথ্য পেয়েছি।’

গতকাল বিকেলে আটোয়ারী উপজেলার তড়িয়া ইউনিয়নের দাড়খোর সীমান্তের নাগর নদী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মানুষের মধ্যে বাঘ আতঙ্ক রয়েছে। চিতা বাঘটির মৃত্যুর কারণ নিয়ে একেকজন একেক রকম কথা বলেন। কেউ বলেন, বাঘটি আগে থেকেই দুর্বল ও রোগাক্রান্ত ছিল। সীমান্তের নাগর নদীতে বাঘটিকে দেখে স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে জাল দিয়ে এটিকে ধরে ফেলে। তবে নদী থেকে তোলার পর বাঘটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আবার কেউ বলেন, গত রবিবার স্থানীয় আলম ইসলামের একটি গরু হিংস্র প্রাণীর আক্রমণে মারা যায়। গরুর মৃত্যুর ক্ষোভে আলমের ছোট ছেলে মৃত গরুর মধ্যে বিষ (ফুরাডন) মিশিয়ে রাখে। সেই গরুর মাংস খেয়ে বৃহস্পতিবার বাঘটি অসুস্থ হয়ে নদীর ধারে অবস্থান করছিল। পরে স্থানীয়রা জাল দিয়ে বাঘটি ধরে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আলম ইসলামের স্ত্রী ময়না বেগম বলেন, ‘গত রবিবার আমার একটি গরু মারা যায়। গরুটিকে বাঘ নাকি শেয়াল আক্রমণ করেছিল জানি না। তবে আমার ছোট ছেলে বলেছিল, “মা, আমাদের এত বড় ক্ষতি হলো, আমি তাকেও মেরে ফেলব।” এরপর সে গরুর মধ্যে অল্প করে ফুরাডন বিষ দিয়েছে বলে শুনেছি। এখন বাঘটি বিষ খেয়ে মারা গেছে, নাকি ঠা-ায় অসুস্থ বা অন্য কোনো কারণে মারা গেছে, জানি না।’

এ ব্যাপারে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাঘের শরীর এবং উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত জাল থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছি। এখন বিষটোপের কারণে নাকি মানুষের আঘাতে বাঘের মৃত্যু হয়েছে, এটা আরও পরে নিশ্চিত করে বলা যাবে।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বাঘটির ময়নাতদন্ত করে আমরা কিছুই পাইনি।’