প্রাথমিক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির পর ‘সরি’ বলে ছাড়া পেলেন এমপির মেয়ে

বগুড়ায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি করতে গিয়ে আটক হওয়ার পরও ছাড়া পেয়েছেন উম্মে হামিদা নামের এক পরীক্ষার্থী। তিনি বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মজিবর রহমান মজনুর সৎমেয়ে।

গত শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) পরীক্ষা চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আটকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। বগুড়া সরকারি পলিটেকনিক কেন্দ্র থেকে উম্মে হামিদাকে আটক করা হয়। গতকাল শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে পরিবারের দাবি ভুল করে উম্মে হামিদাকে ধরা হয়েছিল।

ওই শিক্ষার্থী বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মজিবর রহমান মজনুর সৎমেয়ে। তার মা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শিল্পী বেগম। হাতেনাতে আটকের পরও হামিদাকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় বগুড়া জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বগুড়ায় জালিয়াতি করে পরীক্ষায় মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করার অপরাধে ১৯ জনকে আটক করেন কেন্দ্র পরীক্ষক ও পরিদর্শকরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১০টায় নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর পর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে উম্মে হামিদাসহ চারজন আটক হন। হামিদা ১১০৭ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। কেন্দ্রের বাইরে হামিদার মা শিল্পী বেগমও ছিলেন। হামিদাকে আটক করলে মা শিল্পী বেগম ডিবি কার্যালয়ে যান। পরে রাত ১০টার পর হামিদাকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আবারও কেন্দ্রে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। সেখান থেকে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মামলার বাদী সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিতোষ চন্দ্র সরকার বলেন, সদর থানায় রাতে তিনজনকে পেয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী আমরা মামলার বাদী হয়ে থাকি।

জালিয়াতির বিষয়টি অস্বীকার করে উম্মে হামিদার মা শিল্পী বেগম বলেন, ওরা না বুঝে মেয়েকে ধরে নিয়ে যায়। পরে সরি-টরি বলে মাফ চেয়ে ছেড়ে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে মজিবর রহমান মজনু এমপি তিনি কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। 

এ দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির মেয়ে আটকের বিষয় তিনি জানেন না। পরীক্ষায় জালিয়াতির করার জন্য যাদের কাছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ছিল তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।