বাংলাদেশে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ক্যান্সারে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার প্রতিরোধের কথা চিন্তা করে ২০০৯ সালে ক্যান্সার প্রতিরোধে জাতীয় কর্মকৌশল তৈরি করেছিলো সরকার। এরপর কেটে গেছে ১৫ বছর তবুও এই কর্মকৌশল আলোর মুখ দেখেনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডবিস্নউএইচও) তথ্যমতে, বাংলাদেশে ২০২২ সালের তুলনায় ২০৫০ সালে দ্বিগুণেরও বেশি নতুন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হতে পারে। দেশে বর্তমানে ১৮ থেকে ২০ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে ভুগছে। প্রতিবছর ক্যানসারে নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে আরও দেড় লাখের মতো মানুষ।
এমন প্রেক্ষাপটে আজ বিশ্ব ক্যানসার দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য, ‘ক্লোজ দ্য কেয়ার গ্যাপ’ অর্থাৎ ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবধান বন্ধ করুন। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসার যদি প্রাথমিক স্তরে শনাক্ত করা যায়, তাহলে সব ক্যানসারই সারিয়ে তোলা সম্ভব। যদি অনেক পরে ধরা পড়ে, তখন আর সারানো সম্ভব হয় না। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্যানসার প্রতিরোধে জাতীয় কর্মকৌশল তৈরি করেছিল, যা ২০১৪ সালে হালনাগাদ করার কথা ছিল। কিন্তু এরপর ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এর বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই।
জাতীয় কর্মকৌশলে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল– ১. প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিরোধের মাধ্যমেই ক্যানসারের প্রকোপ হ্রাস, ২. মৃত্যুহার কমাতে কার্যকর স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক শনাক্তকরণ, ৩. কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা, ৪. ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারকে সহায়তার মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, ৫. পুনর্বাসন এবং উপশমকারী যত্ন, ৬. ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে পরিষেবা সরবরাহের উন্নতি, ৭. পরিকল্পনা, সমন্বয়, পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়ন ও ৮. গবেষণা ও নজরদারির মাধ্যমে ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ক্যানসার প্রতিরোধে জাতীয় যে কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা হালনাগাদ করে যুগোপযোগী ও কার্যকর করা হবে।
চিকিৎসকদের মতে, দেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বাড়ার কারণ বিভিন্ন ধরনের দূষণ বৃদ্ধি, খাদ্যে ভেজাল, শাকসবজি ফলমূলের পরিবর্তে জাংক ফুড বেশি খাওয়া, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, তামাক ও অ্যালকোহল গ্রহণ। নারীদের তুলনায় ক্যানসারে পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হলেও নারীদের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। পুরুষরা ফুসফুস, প্রস্টেট, মুখগহ্বর, মলাশয় বা কলোরেক্টাল, পাকস্থলী ও লিভার ক্যানসারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে নারীরা স্তন, জরায়ুর, মুখগহ্বর ও থাইরয়েডের ক্যানসারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
ঢাকা মেডিকেলের বহির্বিভাগে আসা ক্যানসার রোগীদের ১১ শতাংশ জরায়ু ক্যানসারের রোগী বলে জানিয়েছেন রেডিওথেরাপি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আলীয়া শাহনাজ। তিনি বলেন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি), অল্প বয়সে গর্ভধারণ, ধূমপান, বহুগামিতা, দীর্ঘদিন জন্মনিরোধক বড়ি সেবন, বাল্যবিয়ে ও অপরিষ্কার থাকা নারীদের জরায়ু ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।