প্রাথমিকের নিয়োগে প্রতারণা ৩ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতারক চক্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিযোগে পুলিশের এক এএসআই ও দুই কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় তাদের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানায় মামলা করা হয়। পরে তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার তিনজন হলো দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার এএসআই গোলাম রাব্বানী (৩৩)। তার বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার অনন্তরাম গ্রামে। অন্য দুজন হলেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সদর দপ্তরে কর্মরত থাকা কনস্টেবল আবদুর রহমান (৩২) ও শাহরিয়ার পারভেজ শিমুল (৩১)। শাহরিয়ারের বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার হাজরাপাড়া গ্রামে আর আবদুর রহমানের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার যাদুপুরে।

জানা গেছে, শুক্রবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হয়। এ পরীক্ষার আগে একটি প্রতারক চক্রের সঙ্গে পুলিশের গ্রেপ্তার এ তিন সদস্য ১ হাজার ৫২০ চাকরিপ্রার্থীকে পাস করিয়ে দেওয়ার চুক্তি করে। এজন্য পরীক্ষার্থীদের প্রত্যেককে খুবই ছোট আকারের ইয়ারফোন সরবরাহ করে। যার মাধ্যমে বাইরে থেকে পরীক্ষার্থীকে প্রশ্নের সব উত্তর বলে দেওয়ার কথা ছিল। এজন্য পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা করে চুক্তি হয়। পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল ব্যাংকের চেক ও স্ট্যাম্প। পুলিশের অভিযানে কিছু স্ট্যাম্প, একটি ১০ লাখ টাকার চেক এবং ১৪টি ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পরীক্ষার আগের রাতে প্রতারক চক্রের সঙ্গে গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যদের এমন তৎপরতার বিষয়ে জানতে পেরে প্রথমেই আরএমপি সদর দপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর শাহরিয়ার পারভেজ শিমুল ও আবদুর রহমানকে আটক করেন আরএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের নগর ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে রাখা হয়। তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে শুক্রবার রাতে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানা থেকে এএসআই গোলাম রাব্বানীকে আটক করা হয়। এরপর তাকে আরএমপির ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

পরে কারিমা খাতুন (৩০) নামে এক পরীক্ষার্থী রাজশাহীর রাজপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় গ্রেপ্তার তিন পুলিশ সদস্য ছাড়াও মেহেদী হাসান (৩৭) ও মকলেসুর রহমান আপন (৪৮) নামে দুজনকে আসামি করা হয়েছে। মকলেসুরের ঠিকানা অজ্ঞাত বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আর মেহেদী হাসানের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামে। তারা দুজনই পলাতক। এ মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী কারিমা খাতুনের বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার জুমারপাড়া গ্রামে।

এ বিষয়ে আরএমপির মুখপাত্র জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুই কনস্টেবল ও এক এএসআইকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

আরএমপির আদালত পরিদর্শক আবদুর রফিক জানান, রাতে আসামিদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতে আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে রিমান্ডেরও আবেদন করা হয়নি।