আদালত কক্ষে লোহার খাঁচার বৈধতা নিয়ে রুল

অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষে আসামিদের জন্য লোহার খাঁচার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে উচ্চ আদালত। এই লোহার খাঁচা সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৫ অনুচ্ছেদের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক হবে না এবং এর পরিবর্তে কাঠের ডক (কাঠগড়া) কেন প্রতিস্থাপন করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।

এ-সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গতকাল রবিবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেয়। আদেশে দেশের আদালতগুলোতে কতসংখ্যক লোহার খাঁচা রয়েছে, সে বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত। আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও ডিএমপির উপকমিশনারকে (প্রসিকিউশন) চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে হবে। এজলাসে লোহার খাঁচা অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে গত ২৩ জানুয়ারি ১০ আইনজীবীর পক্ষে এই রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

আবেদনের যুক্তিতে তিনি বলেন, অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের লোহার খাঁচা অতীতে ছিল না। এখন শতাধিক আদালতে এ ধরনের খাঁচা রয়েছে, যার বেশির ভাগ ঢাকার আদালতে। বর্তমানে নিম্ন আদালতে এই খাঁচা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মূলত নিষ্ঠুর আচরণ করা হচ্ছে। এমনকি জামিনে থাকা আসামিদের হাজিরার জন্যও এই খাঁচা ব্যবহার করা হয়। তাদের এই খাঁচায় ঢোকানো হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের সময়ও জামিনে থাকা আসামিদের খাঁচায় রাখা হয়।