থামছে না মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ও রাখাইনের বিদ্রোহী গোষ্ঠি আরাকান আর্মির ত্রিমুখী সংঘর্ষ। উল্টো বাড়ছে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা। এই মুহূর্তে কক্সবাজারের উখিয়ার বাংলাদেশ- মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক এলাকার ঢেকুবনিয়ার সীমান্তঘেঁষে থাকা বিজিপি চৌকিতে মর্টার শেল নিক্ষেপ করেছে আরকান আর্মির সদস্যরা।
এর আগে, দুপুর ১২টার দিকে একই এলাকায় ও বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নে হেলিকপ্টার থেকে গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসীর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, সীমান্তঘেঁষে লাল নিশানা বেঁধে অবস্থান নিয়েছে সশস্ত্র আরকান আর্মি। কিছুক্ষণ পরপরই তারা ঢেকুবনিয়া তল্লাশিচৌকি লক্ষ্য করে মর্টার শেল নিক্ষেপ করছে। এই সুযোগে কিছু রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে তাদের বিজিবি ঢুকতে দেয়নি।
পালংখালি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল গফুর বলেন, রবিবার রাত থেকেই পালংখালীর সীমান্তঘেঁষে মিয়ানমারে সংঘর্ষ চলছে। কিছুক্ষণ পরপরই ভারী বোমা, মর্টার শেলের শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই মুহূর্তে ধোঁয়ার কুন্ডলী বের হচ্ছে ঢেকুবনিয়ার বিজিপির সীমান্ত চৌকি থেকে।
ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, রবিবারের সংঘর্ষ তুমব্রুতে চলেছিল সোমবার চলছে বেতবুনিয়ার রাইট ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায়। এদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা।
৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আবদুল্লাহ আল মাশরুকি বলেন, আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত। বিজিবি সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থায় রয়েছে। এপর্যন্ত ৯৫ জন বিজিপি সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন আহত। এদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক শাহীন মুহাম্মদ ইমরান বলেন, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ অবস্থান নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেখানে বসবাস ঝুঁকিপূর্ণ সেসসব এলাকার লোকজনকে সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে।