অনুমতি ছাড়াই কাটা হলো শতবর্ষী সরকারি গাছ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের রায়ের বাজারে ও আঠারবাড়ি-কেন্দুয়া সড়কে অনুমতি ছাড়াই কাটা হচ্ছে শতবর্ষ পুরনো একটি রেইন্ট্রি গাছসহ তিনটি সরকারি গাছ। এ নিয়ে এলাকায় চলছে ব্যাপক সমালোচনা। ক্ষোভ প্রকাশ করে সরকারি গাছ কর্তনের বিচার দাবি করছেন এলাকবাসী।

তিনটি গাছের মধ্যে রেইন্ট্রি গাছের বয়স ১০০ বছর। আঠারবাড়ি রায়ের বাজারের ইজিবাইক-সিএনজি স্টেশনের শতবর্ষী রেইনট্রি গাছটির নিচে ইজিবাইক ও সিএনজি চালকসহ হাজারো মানুষ বিশ্রাম নিত। ছিল হাজারও পাখির আশ্রয়।

ইজিবাইক চালক মানিক মিয়া বলেন, গাছটির ছায়ায় গাড়ি রেখে আমরা যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করতাম। অনেক মানুষও এখানে বসে বিশ্রাম করতেন।

সরজমিন আজ আঠারবাড়ি বাজার পরিদর্শন করে জানা গেছে, গত শুক্রবার ও শনিবার একটি গাছ পুরোপুরি কেটে উধাও করে মাটি দিয়ে গাছের গোড়া ঢেকে রাখা হয়েছে। শতবর্ষী অপর একটি গাছের ডালপালা কেটে আঠারবাড়ি বাজারের স্বপন মিয়ার করাতকলে রাখা হয়েছে। সেখানে গিয়ে ডালপালাগুলো পাওয়া যায়। অপর একটি পুরনো গাছ কাটার জন্য গাছের চারপাশ থেকে মাটি সরানো হয়েছে। এসব গাছের বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা।

জানা গেছে, সওজের কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের একজন উপসহকারী প্রকৌশলীর নির্দেশে ডালপালা কাটা হয়েছে। তিনি এখন তা অস্বীকার করছেন। খবর পেয়ে কর্তিত ডালপালাগুলো বন বিভাগ জব্দ করেছে।

গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত শ্রমিক সর্দার ওয়াহেদ মিয়া জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপসহকারী পরিচালক মাইন উদ্দীন স্যারের নির্দেশনায় দৈনিক মজুরির বিনিময়ে আমি এবং কয়েকজন শ্রমিক গাছগুলো কেটেছি। কর্তিত ডালপালার কিছু অংশ বিক্রি করে দুই হাজার ৮০০ টাকা শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করেছি। 

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কিশোরগঞ্জ শাখার উপসহকারী পরিচালক মাইন উদ্দীন বলেন, আমি কাউকেই গাছের ডালপালা কাটতে কিংবা গাছ কাটতে বলিনি।-এই বলেই ফোন কেটে দেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, আঠারবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. জুবের আলম তাকে এ খবর দেন। তিনি এসে গাছের ডালপালা কেটে ফেলার সত্যতা পেয়েছেন। করাতকলে যে ডালপালগুলো রাখা হয়েছে সেগুলো জব্দ করা হয়েছে। পরে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আঠারবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুবের আলম কবির রূপক বলেন, শতবর্ষী গাছগুলো ছিল হাজারো পাখির আশ্রয়স্থল এবং গাছগুলোর ছায়াতলে মানুষ বিশ্রাম নিত। এসব গাছ ও গাছগুলোর ডালপালা কেটে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছাব্বির আহমেদ আকুঞ্জি বলেন, 'বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবগত করা হয়েছে এবং খোঁজ-খবর নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে।'