৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস। এই দিনটি উপলক্ষে বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে খেলাঘর গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়ায় জি টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে আয়োজন করে স্কুল রচনা প্রতিযোগিতা। 'ক্ষুদে চিন্তাবিদ সংগ্রহ' শীর্ষক আয়োজনকে বাস্তবায়ন করতে শিক্ষার্থীরা "বাংলাদেশ গড়বে তুমি কিভাবে" শিরোনামে রচনা লেখার মধ্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগিতায় "ক" বিভাগ (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি) ও "খ" বিভাগ (৯ম ও ১০ম শ্রেণি) এই দুটি বিভাগে মোট ৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। 'ক' বিভাগ থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে সাব্বির হোসেন, ঈশান সাহা ও আহম্মদ আলী বিশ্বাস। আর 'খ' বিভাগের বিজয়ীরা হলো সায়মা হাসান মাহা, তীর্থ সাহা ও সামিয়া হাসান। বিজয়ীদের প্রত্যেককে বাংলা অভিধান, এক বক্স কলম, ক্রেস্ট ও গাছের চারা দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। আর অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করা হয়।
বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেন জি টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মণিমোহন বিশ্বাস, সিনিয়র ইংরেজি শিক্ষক সুশান্ত মজুমদার, বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা নিজামুল ইসলাম, খেলাঘর গোপালগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক রণেন মণ্ডল এবং 'লালন করি মুক্তিযুদ্ধ'-এর সমন্বয়ক নিয়াজ মোর্শেদ।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা নিজামুল ইসলাম সমবেদনা জানান যারা প্রতিযোগিতার নিয়মাবলীর বেড়া জালে আটকে পিছিয়ে পড়েছে তাদের প্রতি। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাদের লেখা,লেখার বিষয়বস্তু, উপস্থাপন কৌশল, স্বপ্ন প্রকাশের সাহসিকতার বিষয়ে তিনি আলাদাভাবে প্রশংসা করেন এই ক্ষুদে চিন্তাবিদদের।
প্রতিটি মানুষই তার চিন্তার ক্ষেত্রে স্বাধীন। ইতিহাস বলে, মানব জাতির আজকের অবস্থানের প্রধাণ কারণ তাদের কৌতুহল। মানুষ যখনই তার পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে ভেবেছে তখনই শুরু হয়েছে নতুন বিনির্মাণের যাত্রা, এই যাত্রাই নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে সম্প্রদায়ের জীবন ব্যবস্থায়। শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘর নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের অংশ গ্রহণে তাদের চিন্তার স্বাধীনতায় অনুপ্রেরণা দিতেই এই আয়োজন বাস্তবায়ন করে।
আগামী প্রজন্মের চাহিদার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের উদ্দেশ্য সামনে রেখেই পথচলা 'ক্ষুদে চিন্তাবিদ সংগ্রহ' প্রকল্পের। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক গবেষণাধর্মী সংগঠন 'লালন করি মুক্তিযুদ্ধ'-এর সমন্বয়ক নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, এই যাত্রা সহযোগিতা করবে নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে। আমাদের এবারের যুদ্ধ স্বদেশ বিনির্মাণের। মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা নিয়ে আমরা প্রতিটি নাগরিক অংশগ্রহণ করব স্বদেশ বিনির্মাণের যুদ্ধে। আমাদের উদ্দেশ্য রাজধানী শহর থেকে শুরু করে বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত প্রত্যেকটি শিশুর স্বপ্নের বাংলাদেশকে তাদের সামনে তুলে ধরা যারা প্রতিনিয়ত খেটে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিনির্মাণে।