বিশাখাপত্তনম টেস্টের চতুর্থ দিন টম হার্টলির উইকেট তুলে নিয়েই দু’হাত আকাশের দিকে ছুড়ে উদযাপন করলেন জাসপ্রিত বুমরা। এটিই প্রমাণ করে কতটা তৃপ্ত বুমরা। এক, দুই নয় বিশাখাপত্তনমে মোট ৯টি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার ঝুলিতে ভরেছেন ভারতীয় পেসার। ম্যাচশেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সেই বুমরা জানান, নম্বর নিয়ে তিনি কখনও ভাবেন না।
প্রথম ইনিংসে বুমরা ৪৫ রানে শিকার করেন ৬ উইকেট। ইংল্যান্ডের ওলি পোপকে একটি অসাধারণ ইনসুইং ইয়র্কারে বোল্ড করেছিলেন বুমরা। যা নিয়ে তার পর থেকেই ক্রিকেট মহলে চলছে আলোচনা। তুলনা করা হচ্ছে পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক ওয়াকার ইউনিসের ইয়র্কারের সঙ্গে। পুরস্কার নেওয়ার পর সেই ইয়র্কারের রহস্য জানতে চাওয়া হয় বুমরার কাছে। বুমরা জানালেন, ইয়র্কারই সেই ডেলিভারি যা তিনি প্রথম শিখেছিলেন। বলেন, ‘ছোটবেলায় টেনিস বলে খেলার সময় থেকেই ইউনিস, ওয়াসিম আকরাম, জহির খানদের বোলিং দেখে শেখার চেষ্টা করতাম। ছেলেবেলায় আমি সবার প্রথম যে ডেলিভারি শিখেছিলাম সেটা ইয়র্কার। তখন থেকেই ওদের মতো ইয়র্কার করার চেষ্টা করতাম। তখন মনে হত ইয়র্কার করলেই বোধহয় শুধু উইকেট পাওয়া যায়। তখন থেকেই তাই ইয়র্কার দেওয়া শিখেছি।’
নিজের বোলিং নিয়ে বলেছেন, ‘ম্যাচের পরিস্থিতি, পিচের চরিত্র বুঝে বল করার চেষ্টা করি। প্রতিটি সমস্যার সমাধান করাই থাকে লক্ষ্য। প্রতিটি উইকেট আলাদা। প্রত্যেকটার গুরুত্ব আছে। উইকেট পাওয়ার জন্য নিজের সেরাটুকু দিয়েই চেষ্টা করি। যত রকম ভাবে বল করতে পারি, সবই ব্যবহার করি প্রয়োজন অনুসারে।’
বুমরার কথায়, ‘আমি নম্বর নিয়ে কখনও ভাবি না। তরুণ ছিলাম যখন এইসব ভাবতাম এবং উত্তেজিত হতাম। কিন্তু এখন মনে হয় ওটা একটা বাড়তি চাপ। ভারতীয় বোলিং বিভাগের নেতৃত্ব যে বুমরা দিচ্ছেন, তেমনটা তিনি নিজে মনে করেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। দলের তরুণ ক্রিকেটারদের যেভাবে পারি সাহায্য করার চেষ্টা করি। আমরা নিজেদের ভাবনাচিন্তার আদানপ্রদান করি।’
এই টেস্টেই ভারতীয় পেসার হিসেবে দ্রুততম ১৫০ উইকেট নেওয়ার নজির গড়েছেন। অনিল কুম্বলে, রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজার পর টেস্টে ১৫০টি উইকেট নেওয়া চতুর্থ ভারতীয় বোলার এখন তিনি। চলতি সিরিজে এখনো পর্যন্ত তার শিকার ১৫ উইকেট। তবে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে তৃতীয় টেস্টে বিশ্রামে থাকতে পারেন বুমরা।