এ বছরও ডেঙ্গু পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা

দেশে এ বছরও ডেঙ্গু পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নানা কারণে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নিধনে সুফল মিলছে না। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপও নেই। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে মশা নিধনে কোনো কর্মকা- নেই বললেই চলে। অথচ এবার ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এ বছর জানুয়ারি মাসে অন্যান্য বছরের একই সময়ের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড ভেঙেছে।

এমন অবস্থায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত পদক্ষেপ না নিলে সামনের দিনগুলোতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নগর ভবনে ‘এডিস মশা এবং এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু মোকাবিলায় বছর জুড়ে উত্তর সিটির প্রস্তুতি এবং করণীয় শীর্ষক’ গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা এ মত দেন।

বৈঠকে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী তাদের বছর জুড়ে মশা নিধন কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ছয়টি চ্যালেঞ্জের কথাও জানান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, এ বছরও ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ মানুষ প্রথমবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। দ্বিতীয়বার যারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হবে তাদের অবস্থা আরও জটিল হবে। তাই এখন থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এডিস মশা বেড়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, এ বছরও এই সেরোটাইপে বেশি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই চলতি বছরও ডেঙ্গু নিয়ে জটিলতা বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, মশা নিধনে সিটি করপোরেশনে বড় ঘটতি কীটতত্ত্ববিদদের অভাব। উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫০ জনের বেশি কীটতত্ত্ববিদ প্রয়োজন। এসব সংকট কাটিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা জরুরি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাসার বলেন, মশা দুই ধরনের হয়। যতদিন সাধারণ মশার সঙ্গে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশাকে মেশানো হবে, ততদিন দেশ থেকে ডেঙ্গু যাবে না।

ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, অন্যকে দোষারোপ না করে আত্মসমালোচনার মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে হবে। এ সময় মশক নিধন কাজের তদারকি ঠিকভাবে হচ্ছে না বলে স্বীকার করে মেয়র। তিনি বলেন, মশার ওষুধ স্প্রে করার পর ওই জায়গাগুলোতে ফলাফল কী হচ্ছে, তা নিয়ে আমরা ঠিকমতো কাজ করতে পারিনি। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আমরা আরও উদ্যোগ নেব। এজন্য তদারকি ও কাজের মূল্যায়নে কমিটি করা হবে। ভবিষ্যতে কোনো ঠিকাদার কোম্পানির কাছ থেকে মশক নিধনের ওষুধ আর আনা হবে না।