ঘুষের টাকা ফেরতে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ

এমপিওভুক্তির জন্য দেওয়া ঘুষের টাকা ফেরতের দাবিতে সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে এক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষিকার লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্বজনরা। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার মাইজবাড়ি ইউনিয়নের গোদাগাড়ী চকপাড়া গাড়াবেড় বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রোকেয়া বেগমের (৫৫) লাশ নিয়ে এ বিক্ষোভ হয়। পরে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ঘুষের টাকা আগামী তিন দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করলে স্বজনরা লাশ নিয়ে গিয়ে দাফন করেন।

মৃত স্কুলশিক্ষিকা রোকেয়া বেগম কাজীপুর উপজেলার মাইজবাড়ি ইউনিয়নের গাড়াবেড় গ্রামের খয়ের উদ্দিনের মেয়ে। তিনি জিসিজি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক শাখার ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, এমপিওভুক্তির কথা বলে ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি ও কাজীপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দ্বীন মোহাম্মদ বাবলু ও প্রধান শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম কয়েক দফায় রোকেয়া বেগমের কাছে থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। মৃতের ভাই খলিলুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ১৯৯৮ সালে গোদাগাড়ী চকপাড়া গাড়াবেড় বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক শাখায় রোকেয়া বেগম ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

তখন থেকে তিনি এমপিওভুক্তির আশায় বিনা বেতনে চাকরি করে আসছিলেন। সম্প্রতি এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে আরও টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু কাগজপত্র সঠিকভাবে না পাঠানোয় ওই শিক্ষিকার এমপিওভুক্তির আবেদন বাতিল হয়। তিনি ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেও সম্প্রতি বোর্ডে গিয়ে দেখেন তাকে সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরপর কাগজপত্র ঠিক করে আবারও আবেদন করার জন্য গত শনিবার ওই শিক্ষিকার কাছে আরও ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তা দিতে না পারায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপর তিনি তার সব টাকা প্রধান শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দ্বীন মোহাম্মদ বাবলুর কাছে ফেরত চান। তারা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করায় মানসিক চাপে গত ৩০ জানুয়ারি বাড়িতে স্ট্রোক করেন রোকেয়া বেগম।

ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার ভোরে মারা যান তিনি। রোকেয়া বেগমের স্বামী আবদুল করিম বলেন, ‘ওই বিদ্যালয়ে আমি ও আমার স্ত্রী দুজনই সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি নিই। বিদ্যালয়ের ঘর করার কথা বলে প্রধান শিক্ষক ফরিদুল আমার স্ত্রী ও আমার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা নেন। এরপর আমি চাকরি ছাড়লেও আমার স্ত্রী রয়ে যায়। তার বেতন করে দেওয়ার (এমপিওভুক্তি) কথা বলে তারা দফায় দফায় লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু বেতন করে দেননি।

এই শোকে আমার স্ত্রী স্ট্রোক করে মারা গেল।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম মৃত শিক্ষিকার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘রোকেয়ার টাকা দিয়েই আমরা বিদ্যালয়ের ঘর তুলেছি। বেতন করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময় টাকাও নিয়েছি। কিন্তু একটি কাগজ পাঠাতে সমস্যা হওয়ায় এবার তার এমপিওভুক্তি হয়নি। ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আমরা রোকেয়ার ৪ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’